০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

এবার ইরানের স্থলপথ অবরোধ করতে ২০ সদস্যের টাস্কফোর্স গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

এক্সে এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানের বিরুদ্ধে এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থা সন্ত্রাসবাদে দেশটির অর্থ সাহায্য, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা অনেকটাই কমাবে।

এবার ইরানের স্থলপথ অবরোধ করতে ২০ সদস্যের টাস্কফোর্স গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Nov 2026, 08:03 PM

Updated : 08 Nov 2026, 08:13 PM

ইরানে প্রবেশের স্থলপথগুলো অবরুদ্ধ করতে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওই সব পথ দিয়ে অস্ত্র এবং অবৈধ সামগ্রী পাচার হয়। তা রোধ করার পথ খুঁজতেই ওই টাস্ক ফোর্স গড়তে চায় প্রশাসন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে এই পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানিয়েছেন।

নয় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী ইরান যুদ্ধের আবহে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ফ্লোরিডা ভিত্তিক এই বিশেষ টাস্কফোর্সে ২০ জন সামরিক ও অসামরিক সদস্য থাকবেন।

মার্কিন সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই টাস্কফোর্স ইরান ও তার সীমান্তবর্তী স্থলপথ এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহার্য প্রযুক্তি, নিষিদ্ধ সামগ্রী ও বেআইনি অর্থের লেনদেন বা পাচার কঠোর হাতে দমন করবে।

ব্র্যাড কুপারের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি ব্যবস্থা তেহরানের সন্ত্রাসবাদে অর্থ সাহায্য, অস্ত্র কারখানাগুলোর পুনর্নির্মাণ এবং সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত করবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, ইরান যেন কোনও ভাবেই পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে না-পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে এখনও রাজি নয় ইরান।

দু’পক্ষ আলোচনায় বসলেও মতবিরোধের কারণে এখনও দু’দেশের মধ্যে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তার মধ্যেই হরমুজে ইরানের সব বন্দর অবরোধ করে মার্কিন নৌবাহিনী।

কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল ইরান। এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিচালিত হয়।

কিন্তু ইরানের এই পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে মার্কিন নৌ-অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং তেহরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ থমকে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন নৌ অবরোধের সেই পদক্ষেপকেই আরও বিস্তারিত করে এবার ইরানে প্রবেশের স্থলপথগুলো ‘অবরোধের’ পথে হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক রুট বন্ধ হওয়ার পর থেকে ইরান স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগরকে অস্ত্র এবং রাজস্ব সংগ্রহের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের নতুন এই ২০ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করা।

সূত্র: এনডিটিভি