চীনে প্রথমবারের মত শিশুদের ছাড়িয়ে গেল প্রবীণদের নির্ভরতার অনুপাত
চীনে বর্তমানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখের বেশি। বিপরীতে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশু রয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ।
চীনে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর এখন শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের ভরণপোষণের চাপ বেশি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দেশটিতে দ্রুত বাড়তে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আকার এবং ক্রমাগত কমতে থাকা জন্মহারের প্রভাব কতটা গভীর, এই চিত্রেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘ইচাই’ জানায়, ২০২৫ সালে প্রবীণদের নির্ভরতার হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশে। বিপরীতে শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২২ শতাংশ। অর্থাৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিপরীতে এখন শিশুর চেয়ে প্রবীণের অনুপাতই বেশি।
গত এক দশকে এই হার টানা বেড়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে প্রবীণ নির্ভরতার অনুপাত ছিল ১৫ শতাংশ, ২০২১ সালেই তা ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখের বেশি। বিপরীতে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশু রয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ।
জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মত কমেছে চীনের মোট জনসংখ্যা। মূলত ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা ‘এক সন্তান নীতি’ এবং দ্রুত নগরায়ণের প্রভাবেই কয়েক দশক ধরে দেশটিতে জন্মহার কমছে।
এই জনমিতিক সংকট সামাল দিতে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে নাগরিকদের নানা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি, সন্তান লালন-পালনে সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং প্রসবকালীন চিকিৎসাব্যয় হ্রাস।
পাশাপাশি তরুণ সমাজ ও নতুন পরিবারের জন্য শহুরে জীবনকে আরও সহজ ও অনুকূল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
