কাবুলে জাওয়াহিরির খোঁজ না জানার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি তালেবানের

কাবুলের কাছের এক অভিজাত এলাকার একটি বাড়িতে গত রোববার ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আল কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

রয়টার্স
Published : 4 August 2022, 06:34 PM
Updated : 4 August 2022, 06:34 PM

আল কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ‘প্রবেশ করেছেন এবং বসবাস করছেন’ এমন কোনও তথ্য জানা ছিল না বলে দাবি করেছে তালেবান। একইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের মাটিতে ড্রোন হামলার পুনরাবৃত্তি না করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

দোহা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘে তালেবানের প্রতীকী প্রতিনিধি সুহাইল শাহিন বলেন, ‘‘যেটা দাবি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তালেবান সরকার বা নেতারা কিছুই জানতেন না, এমনকী সেখানে তার (জাওয়াহিরি) অবস্থানের কোনও চিহ্নও তারা পাননি।দাবির সত্যতা জানতে এখন তদন্ত চলছে।”

গত রোববার কাবুলের কাছের এক অভিজাত এলাকার একটি বাড়িতে ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাওয়াহিরিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এক দশক আগে পাকিস্তানের গোপন ঘাঁটিতে আল কায়েদা প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর জঙ্গি দলটির ওপর এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আঘাত।

কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা নিয়ে তালেবান নেতারা এখনও বলতে গেলে নীরব হয়েই আছেন। এমনকী তারা জাওয়াহিরির কাবুলে অবস্থান করা বা তার মৃত্যু নিয়েও মুখ খোলেননি।

ড্রোন হামলার বিষয়ে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘যদি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় এবং যদি আফগানিস্তানের ভূখণ্ড পুনরায় লঙ্ঘিত হয় তবে যে কোনও ধরনের পরিণতির দায় সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন তলেবান কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার জবাব দেওয়া যায় তা নিয়ে তালেবানের শীর্ষ নেতারা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে তালেবান কীভাবে এ হামলার জবাব দিচ্ছে সেটি তাদের জন্য বড় ধরনের কোনো পরিণতিও ডেকে আনতে পারে। কারণ, এক বছর আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবান এখন তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে এবং বিদেশে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের রিজার্ভ হাতে পেতে চাইছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক