ভিন জাতে বিয়ে, মেয়ে খুনের অভিযোগে ভারতে বাবা-মা গ্রেপ্তার

ভিন্ন গোত্রে বিয়ে করা নিয়ে কলহের জেরে বাবা মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং পরে মৃতদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ভাষ্য পুলিশের।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2022, 03:41 PM
Updated : 22 Nov 2022, 03:41 PM

ভারতের উত্তর প্রদেশে মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ ওই তরুণীর বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভিন্ন গোত্রে বিয়ে করা নিয়ে কলহের জেরে বাবা মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং পরে মৃতদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ভাষ্য পুলিশের।

বিবিসি জানায়, উত্তর প্রদেশের মথুরা নগরীর কাছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে পড়ে থাকা একটি লাল স্যুটকেসের ভেতর থেকে গত শুক্রবার পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার হয়।

ময়নাতদন্তে মৃত তরুণীর মাথায়, মুখে এবং শরীরের অন্যান্য জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে তার মৃত্যুর মূল কারণ ‘দুইবার বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া’ বলে জানান চিকিৎসকরা।

এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ওই তরুণী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পুলিশ তার বাবা-মায়ের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ার দাবি করে এবং বাবা নিতেশ কুমার যাদব ও মা ব্রজবালাকে গ্রেপ্তার করে।

যদিও এ দম্পতি এখনো কোনও জবানবন্দি দেননি বলে পুলিশের বরাত ‍দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

তবে পুলিশের ধারণা, এটা ‘অনার কিলিংয়ের’ ঘটনা। যেখানে পরিবারের সম্মান বাঁচানোর নামে নিহতের পরিবারের সদস্যরাই তাকে হত্যা করে। সাধারণত তরুণ-তরুণীরা অনার কিলিংয়ের শিকার বেশি হন।

ভারতে নিয়মিতই অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে। এবারের ঘটনায় নিহত তরুণীর নাম আয়ুশি চৌধুরি। যিনি দিল্লিতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখপড়া করতেন এবং সেখানেই তার পরিবারের সঙ্গে বাস করতেন।

সোমবার বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ দাবি করে, ২২ বছরের আয়ুশিকে তারা বাবা গত ১৭ নভেম্বর খুন করেন। আয়ুশি পরিবারের অমতে ভিন্ন জাতের ছত্রপাল চৌধুরি নামের এক তরুণকে বিয়ে করেছিলেন।

আয়ুশিকে খুন করার আগে এ বিষয়টি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে নিতেশ কুমারের তুমুল ঝগড়া হয়।

মেয়েকে হত্যা করার পর নিতেশ কুমার দম্পতি মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রাতে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফেলে দিয়ে আসে। পরদিন মৃতদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করতে মাঠে নামে পুলিশ।

পুলিশ নিতেশ কুমারের কাছ থেকে ‘হত্যায় ব্যবহৃত’ লাইসেন্স করা বন্দুক এবং গাড়ি জব্দ করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক