২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে ‘২৮ জঙ্গি’ হত্যার দাবি পাকিস্তানের

রাতে পাকিস্তানি বিমানগুলো আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে অন্তত তিন বেসামরিককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ কাবুলের।

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে ‘২৮ জঙ্গি’ হত্যার দাবি পাকিস্তানের

কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে এক ব্যক্তি তার জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 12:42 PM

Updated : 22 Sep 2026, 01:10 PM

পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ‘২৮ জঙ্গিকে’ হত্যা করেছে।

সোমবার পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, রাতে পাকিস্তানি বিমানগুলো আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে অন্তত তিন বেসামরিককে হত্যা করেছে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) ওই হামলায় তিনজন: এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশু বালিকা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে।

রয়টার্স লিখেছে, এই হামলায় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রায় তিন মাস ধরে বিরাজমান শান্ত পরিস্থিতির অবসান হল।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “আফগানিস্তান এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেবে।”

নাম না প্রকাশ করার শর্তে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে আঘাত হানা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এসব হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে এক্স এ এক পোস্টে তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামাদুল্লাহ ফিতরাত জানান, হামলায় কানুর প্রদেশের অন্তত একটি বাড়িতে আঘাত লেগেছে, এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার দুটি স্থানেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, এতে একটি দোকান ও খালি একটি বাড়ি ধ্বংস হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

পাকিস্তানি হামলার সময় বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা স্থানীয় বাসিন্দা মুলা খান (৫৫) বলেন, “প্রত্যেকেই আতঙ্কিত হয়েছিল।”

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে সম্পর্ক নাজুক হয়ে আছে। ওই সময় দুইপক্ষ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। তারপর থেকে অনেকগুলো প্রাণঘাতী হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও গত প্রায় তিন মাস ধরে পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত শান্ত ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের এক পুলিশ লাইনে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে চালানো ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়। এ ঘটনার পর আফগানিস্তানে বিমান হামলা চলাল ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা নিয়েই দুই দেশের বিরোধের সূত্রপাত। ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ বলে দাবি করে আসছে।

মার্চে কাবুলে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি আফগান নিহত হয়েছিল। একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র লক্ষ্য করে পাকিস্তানি বাহিনী ওই বিমান হামলা চালায় বলে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।