১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রাহুল-খাড়গেদের সাক্ষাৎ দেবেন না প্রধান বিচারপতি, দিল্লিতে ১৩৩ ধারা জারি

সাক্ষাতের পরিবর্তে বিরোধী নেতাদের দাবির পক্ষে পিটিশন বা রিট দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

রাহুল-খাড়গেদের সাক্ষাৎ দেবেন না প্রধান বিচারপতি, দিল্লিতে ১৩৩ ধারা জারি

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: দ্য ওয়্যার

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 11:57 PM

Updated : 11 Oct 2026, 11:57 PM

নির্বাচনে জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে সোমবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইনডিয়া’ জোট সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ইনডিয়া জোটের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পরিবর্তে তিনি তাদের নিয়মতান্ত্রিক আইনি উপায়ে পিটিশন বা রিট দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সোমবার বিকাল ৪ টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ চেয়ে ই-মেইল করেছিলেন ইনডিয়া জোটের অন্যতম নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। তবে তাদের অনুরোধের জবাবে প্রধান বিচারপতি পাল্টা ই-মেইলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জোট নেতারা যে বিষয়গুলো উত্থাপন করতে চাইছেন সেগুলো ইতিমধ্যেই বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টেই এগুলোর শুনানি চলছে।

এছাড়া প্রশাসনিক পর্যায়ে এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করার কোনো এখতিয়ার আদালতের নেই। আদালতের প্রকৃত শক্তি ও দায়িত্ব হল পিটিশন বা আবেদনের আইনি শুনানি গ্রহণ করা এবং তার ওপর বিচারিক রায় দেওয়া।

শেষে প্রধান বিচারপতি ইনডিয়া জোট নেতাদের আশ্বস্ত করেন যে, সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা। আদালত প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এনডিটিভি বলছে, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্মারকলিপি নিতে প্রধান বিচারপতির আপত্তি সত্ত্বেও সোমবার বিরোধীদের পদযাত্রা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পদযাত্রা বাতিল বা স্থগিতের বিষয়ে এখনো কিছুই বলেনি ইনডিয়া জোট।

এদিকে দ্য ইকোনমিক টাইমস বলছে, সিইসির পদত্যাগ দাবিতে গত দুইদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষা এবং নাগরিকদের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় ১৩৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এর অধীনে দিল্লিতে অনুমতিহীন সমাবেশ ও প্রতিবাদ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভারতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা জারি করা বলতে, জনস্বার্থে বা জনদুর্ভোগ দূর করতে কোনো উপযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একটি শর্তসাপেক্ষ আদেশ জারি করা বোঝায়। সাধারণত যখন কোনো পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা চলাচলের ক্ষেত্রে সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন এই ধারাটি ব্যবহার করা হয়।

তবে ইনডিয়া জোটের পদযাত্রা ও তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণার মধ্যে সোমবার ১৩৩ ধারা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এরইমধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তরুণ সমাজ, বিরোধী দলগুলো এবং সুশীল সমাজের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘ভয় পাব না’ স্লোগান দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় কাটিয়ে ওঠারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।