০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

হুতিদের মোকাবেলায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনে সেনা পাঠাচ্ছে সিরিয়া

গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়া এবার হুতিদের মোকাবেলায় এই সেনা পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড়ের সূচনা করেছে।

হুতিদের মোকাবেলায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনে সেনা পাঠাচ্ছে সিরিয়া

আহমেদ আল-শারা ও মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 10:17 PM

Updated : 07 Nov 2026, 10:17 PM

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবেলা করা এবং ইয়েমেন সরকারকে শক্তিশালী করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সাহায্য চাইছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাজার হাজার সিরীয় সেনা সৌদি আরব ও ইয়েমেনে পাঠানো হচ্ছে। এই সেনাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেও গেছে।

বেশ কয়েকজন ইয়েমেনি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন।

ইয়েমেনের তিনটি পৃথক সামরিক সূত্র এবং এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই সীমান্তের উভয় পাশেই শত শত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে যে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে।

সিরিয়া প্রায় ৩,০০০ সেনা পাঠাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে যুদ্ধ করার জন্য। ইয়েমেনের প্রধান সরকারি দল 'প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল'-এর একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সূত্র জানান, “হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রায় ৩,০০০ সেনা পাঠানোর বিষয়ে সিরিয়া ও সৌদি আরব-দুই পক্ষ একমত হয়েছে।”

এ সপ্তাহে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সৌদি আরব সফরের সময় এই সমঝোতা হয়েছিল, তখন দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সহ বিভিন্ন সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে।

সামরিক কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে যে সব সেনা সীমান্তের ইয়েমেনি অংশে মোতায়েন রয়েছে তারা ওই এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করছে।

সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ-পরবর্তী সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরব তার মিত্রদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে। কারণ, তারা লোহিত সাগরের উপকূল দখল করে রাখা ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার মুখে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে হুতিরা সৌদি আরবের ওপর হামলা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার কারণে সেটি দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতি সৌদি আরবের বিশাল অর্থনৈতিক বহুমুখী পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।