ভারতে সুড়ঙ্গে আটকা শ্রমিকদের ১০-১২ ঘণ্টাতেই উদ্ধারের আশা

সব কাজ পরিকল্পনামাফিক এগুলে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শেষের আশা প্রকাশ করেছেন ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মহাপরিচালক।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2023, 06:04 PM
Updated : 23 Nov 2023, 06:04 PM

ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যে উত্তরকাশীর নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের ১০-১২ ঘণ্টাতেই উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মহাপরিচালক অতুল কারওয়াল বিবিসি হিন্দি সার্ভিস-কে বৃহস্পতিবার সকালে বলেছেন, “সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগুলে এবং আর কোনও বাধা না এলে আমরা আজ রাতেই কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারব।”

টানা ১২ দিন ধরে সুড়ঙ্গে আটকে আছে ৪১ জন শ্রমিক। তাদের বের করে আনতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে চওড়া পাইপ ঢুকিয়ে শ্রমিকদের বাইরে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গের ভেতরেও আবার নামে ধস।

এরপর বুধবার সুড়ঙ্গের মুখের কাছে ফের ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ার পর আবার নতুন বাধা আসে। ফলে খননের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই বাধা কাটিয়ে ফের শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি।

এরপরই কর্মকর্তারা সবকিছু ঠিকঠাকমত চললে শিগগিরই সবাইকে উদ্ধারের আশা প্রকাশ করলেন।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মহাপরিচালক কারওয়াল বৃহস্পতিবার বলেছেন, উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী শ্রমিকদের সঙ্গে সকালে কথা বলেছেন। তাদেরকে তেজোদ্দীপ্ত বলেই তার মনে হয়েছে।

“এমনকি শ্রমিকরা খুব শিগগিরই উদ্ধার পাবেন বলেও বোধ করছেন”, বলেন কারওয়াল।

গত ১২ নভেম্বর এই নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ৮ মিটার প্রশস্ত ওই সুড়ঙ্গে আটকা পড়া শ্রমিকরা ভারতের ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। জীবিকার জন্য তারা এ কাজে এসেছিলেন।

বিভিন্ন ধরনের চওড়া পাইপ ধ্বংসস্তুপের দেয়ালের ভেতর দিয়ে আনুমানিক ৬০ মিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাতে একটি মাইক্রো টানেল তৈরি করা যায়, যার ভেতর দিয়ে শ্রমিকরা হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন।

একবার সর্বশেষ পাইপ যেটি দিয়ে শ্রমিকরা বের হবেন,সেটি তাদের পৌঁছে গেলে তাদের শারিরীক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য একজন চিকিৎসককে সেখানে পাঠানো হবে।

আর সুড়ঙ্গের বাইরে প্রস্তুত রাখা হবে অ্যাম্বুলেন্স। কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিকদেরকে নিরাপদে বের করে আনা হবে এবং এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদেরকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।