ধানমন্ডিতে দারোয়ানের সঙ্গে মারামারির পর রঙমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
তাকে মেরে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডি থেকে এক রঙমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
সদলক খান বাবু (৩৫) নামে ওই রঙমিস্ত্রি পশ্চিম ধানমন্ডির ২৭৯/১ নম্বর ১০ তলা ভবনে কাজ করছিলেন।
তার লাশ উদ্ধারের পর ভবনটির কেয়ারটেকার মিল্টন (৪২) ও দারোয়ান বাঁধন দিওকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দারোয়ান বাঁধন দিওর সঙ্গে বাবুর হাতাহাতি হয়। পরে বাবু ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে এনে দারোয়ানকে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন।
তিনি বলেন, “দারোয়ানের চিৎকারে বাবুর লোকজন পালিয়ে যায়। এরপর বাসার কেয়ারটেকার মিল্টন ঘটনাস্থলে যান। বাবু পালানোর জন্য সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ১০ তলা ভবনেটির ছাদে ওঠেন। দুয়েক মিনিট পর কেয়ারটেকার তিন সঙ্গী নিয়ে ছাদে ওঠেন। এরপর তারা নিচে নেমে আসেন। তার কিছুক্ষণ পরই গ্যারেজের ওপর চালায় বাবুকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।”
বাবুর শরীরে ধুলোবালি থাকার বর্ণনা দিয়ে এসআই বলেন, “পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত আড়াআড়ি ছিলে যাওয়া লালচে ও বেগুনি ক্ষত ছিল। দুই হাতের কনুইয়ে চামড়া ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ এবং ঠোঁটে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
“তাকে মেরে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
এ ঘটনায় কেয়ারটেকার মিল্টন ও দারোয়ান বাধন দিওসহ নাম তুলে না ধরে কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাবুর মা সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, “ছেলে মাজেদা ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি রঙের কাজ করত। ওই বিল্ডিংয়ে কাজ করে তার ৩ লাখ টাকা পাওনা হয়। মালিক ঠিকমত টাকা দিচ্ছিল না, দেড় লাখ দেওয়া হয়েছিল।
“কাল (বৃহস্পতিবার) বিকালে গ্যারেজে থাকা রঙের সরঞ্জাম (ঝুল) আনতে গেলে দারোয়ান ঢুকতে দেয়নি, এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়।”
ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
