নেপালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জয়ের সম্ভাবনা

এবারের নির্বাচনে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে পারে এবং নতুন রাজনৈতিকদলগুলো সরকার গঠনে মূল ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2022, 03:46 PM
Updated : 23 Nov 2022, 03:46 PM

নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন দল নেপালি কংগ্রেস পার্টির জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একক বৃহত্তম দল হিসাবেও দলটি আবির্ভুত হতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

এবারের নির্বাচনে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে পারে এবং নতুন রাজনৈতিকদলগুলো সরকার গঠনে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই গত রোববার সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে লাখো নেপালি। গণনা শেষে ভোটের চূড়ান্ত ফল পেতে আরও এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ; তারাই পার্লামেন্টের ২৭৫ আসনে প্রতিনিধি এবং ৭টি প্রাদেশিক বিধানসভার জন্য ৫৫০ সাংসদ বেছে নিচ্ছেন।

পার্লামেন্টের ২৭৫ আসনের ১৬৫টিতে এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৫৫০আসনের ৩৩০টিতে সরাসরি ভোট হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে আনুপাতিক ব্যবস্থায় প্রতিনিধি বাছাই হবে।

নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা নেতৃত্বাধীন নেপালি কংগ্রেস ও সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের জোটের সঙ্গে নেপাল কমিউনিস্ট ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্টের (ইউএমএল) মূল লড়াই হয়েছে।

দেউবার নেপালি কংগ্রেস নির্বাচনের ২২ টি আসনের ঘোষিত ফলের ১৩ টিতে জয় পেয়েছে। আর বাকি আসনের মধ্যে তিনটি পেয়েছে ইউএমএল এবং তিনটি পেয়েছে নবগঠিত ন্যাশনাল ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি (এনআইপি)।

ক্ষমতাসীন নেপালি কংগ্রেস এ পর্যন্ত পার্লামেন্টে ১১ টি আসন লাভ করেছে। এগিয়ে রয়েছে আরও ৪৬ টি নির্বাচনী আসনে। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি অলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন-ইউএমএল পেয়েছে তিনটি আসন এবং আরও ৪২ টি নির্বাচনী আসনে তারা এগিয়ে রয়েছে।

তবে চূড়ান্ত ফল আসতে এখনও ১০ দিন সময় লাগতে পারে। কারণ, লাখ লাখ ভোট গণনা এখনও বাকি।

নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেউবার নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে প্রয়োজন পড়তে পারে তার জোট শরিকদের সমর্থন, এমনকী কয়েকটি নতুন দলের সমর্থনও। কারণ, তার দল শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নাও পেতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গেজা শর্মা ওয়াগেল বলেছেন, “আমি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সম্ভাবনা দেখছি, যেখানে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তরুণ নেতাদের নতুন রাজনৈতিক দলগুলো নতুন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক