জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাসের পরও গাজায় হামলা চলছে

রাফাহ নগরীতে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে আবাসিক ভবনের অন্তত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গণমাধ্যম।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 March 2024, 12:11 PM
Updated : 26 March 2024, 12:11 PM

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস হওয়ার পরও সেখানে ইসরায়েলের অভিযান চলছে।

সোমবার সারারাত ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত হয়েছে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরের বেশ কিছু এলাকা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, রাফাহ নগরীতে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলের জঙ্গিবিমান। এতে একটি আবাসিক ভবনে অন্তত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গণমাধ্যম।

এছাড়াও কাছের খান ইউনিস এবং গাজা সিটিতেও ইসরায়েল হামলা চালাচ্ছে। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ জন নিহত এবং ৯৩ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।

সব মিলে যুদ্ধের শুরু থেকে গাজায় ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪১৪ জনে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মঙ্গলবার বলেছে, ইসরায়েল হামাসের যুদ্ধবিরতির দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

সরায়েল এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবে নিঃশর্তে সব জিম্মি মুক্তির আহ্বানও জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এবার ভিটো না দিয়ে বরং ভোটদানে বিরত থাকার মাধ্যমে তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করার পর এ প্রস্তাব পাস হয়েছে।

গাজায় গতবছর অক্টোবরে যুদ্ধের শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো নিয়ে একমত হওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল।

যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়ে এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা একের পর এক প্রস্তবনার বিরোধিতা করেছে। ভোটাভুটিতে ভিটো দিয়ে মিত্র ইসরায়েলের রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করেছে তারা।

কিন্তু সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে আনা প্রস্তাবনায় যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থেকে মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ারই ইঙ্গিত দিয়েছে। ওদিকে, ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। হোয়াইট হাউজে এ সপ্তাহে ইসরায়েল তাদের প্রতিনিধিদলের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছে।

ওদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি আহ্বানে প্রস্তাব পাসের পর কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে হামাস জানিয়েছে, তারা এখনও গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও তাদের ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে অটল।