১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কিউবায় সামরিক পদক্ষেপ: ট্রাম্পকে আটকানোর চেষ্টা মার্কিন সেনেটে ব্যর্থ

“যা আমরা কিউবার সঙ্গে করছি, তা কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করলে অবশ্যই আমরা সেটাকে যুদ্ধ ঘোষণা গণ্য করতাম,” বলেছেন ডেমোক্র্যাট সেনেটর টিম কেইন।

কিউবায় সামরিক পদক্ষেপ: ট্রাম্পকে আটকানোর চেষ্টা মার্কিন সেনেটে ব্যর্থ
কিউবার হাভানাতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এক সাইকেল র‌্যালি। ফাইল ছবি। ছবি: ইপিএ/আল জাজিরা

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Apr 2026, 05:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কিউবায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে আনা একটি প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন সেনেট।

রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ এ উচ্চকক্ষে মঙ্গলবার ৫১-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি খারিজ হয়। ভোটের এ ফলে বোঝা যাচ্ছে, মোটাদাগে ডেমোক্র্যাটরাই এ প্রস্তাবের পক্ষ নিয়েছিলেন, রিপাবলিকানরা বিপক্ষে, বলছে আল জাজিরা।

ডেমোক্র্যাট সাংসদদের আনা এ ‘যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের’ বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ট্রাম্পের দলের আইনপ্রণেতারা বলেছেন, কিউবার বিরুদ্ধে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেই, তাই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্বের প্রয়োজনও পড়ছে না। 

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সেনেটর রিক স্কট প্রস্তাবটির বিপক্ষে পয়েন্ট অব অর্ডারের সূচনা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে ভোট যথাযথ নয়, কেননা ট্রাম্প এখনও হাভানার বিরুদ্ধে সেনা মোতায়েন করেননি।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্কট বলেন, “যদি আমরা কিউবায় সত্যিকারের সংস্কার চাই, তাহলে অবৈধ কাস্ত্রো/দিয়াস-কানেল শাসনের অবশ্যই পতন ঘটতে হবে।”

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যে স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি এবং মাতৃভূমি ও জীবনের নতুন দিনের সত্যিকারের আশা দেখা যাচ্ছে, তাতে আমি খুশি,” বলেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প একাধিকবার কিউবার শাসকদের হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘এরপর কিউবা’।

জানয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ এবং এরপর ইরানে যুদ্ধের পর তার এ হুঁশিয়ারি এসেছিল। ভেনেজুয়েলা বা ইরান কোথাও সামরিক অভিযানে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি।

অল্প কিছুদিন আগেই ট্রাম্প কিউবায় ‘নতুন ভোর’ আনার অঙ্গীকার করেন।  

কিউবায় ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে আনা প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর টিম কেইন বলেন, কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দ্বীপদেশটিতে জ্বালানি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র যে বাধা দিচ্ছে, তা এক প্রকার সামরিক পদক্ষেপই।

“যেটা আমরা কিউবার সঙ্গে করছি, তা যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করতো, তাহলে অবশ্যই আমরা একে যুদ্ধ ঘোষণা গণ্য করতাম,” ভোটের আগে সেনেটে দেওয়া বক্তৃতায় এমনটাই বলেছিলেন তিনি। 

“এই প্রস্তাবের পক্ষে আমার যুক্তি হল, আমরা এরই মধ্যে কিউবার সঙ্গে বৈরিতায় জড়িয়ে পড়েছি, কারণ আমরা ওই দেশটির ওপর সর্বনাশা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহার করছি, মূলত কোস্ট গার্ডকে, কিন্তু অন্যান্য সম্পদও ব্যবহার করা হচ্ছে,” বলেন কেইন।  

কিউবায় ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আটকানোর লক্ষ্যে মঙ্গলবারই প্রথম কোনো প্রস্তাব নিয়ে সেনেটে ভোট হল। প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে এর আগে ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সেনেটে কয়েক দফা প্রস্তাব আনলেও তার কোনোটিই সফলতার মুখ দেখেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণার এখতিয়ার রাখে। তবে এ বিধান প্রেসিডেন্টকে স্বল্পকালীন অভিযান বা তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবেলায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে আটকাতে পারে না।

হোয়াইট হাউস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে ট্রাম্প তার এখতিয়ারের ভেতরেই সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।