Published : 23 Aug 2026, 10:48 AM
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরিকল্পনা করার পর তেহরান এর নিন্দা করেছে।
ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে আর এটি চীনসহ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে প্রায় ছয় মাস পার হয়ে গেছে, পক্ষগুলো পরস্পরের প্রতি গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখলেও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে অননুমোদিত কোনো তেলবাহী ট্যাংকার পার হওয়ার চেষ্টা করলে আঘাত হানার হুমকি দিয়ে রেখেছে তেহরান আর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে ব্যাপক চাপে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টায় বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেসেন্ট চীনকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কেনে চীন। কিন্তু চীন ওয়াশিংটনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে কূটনৈতিক পথে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাকায়ি শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আসন্ন ঘোষণা হবে ‘জাতিসংঘের প্রতিটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর বহির্রাষ্ট্রীয় সর্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার একটি ঘোষণা।”
এক্স এ এক পোস্টে তিনি বলেন, “এ ধরনের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার কোনো ভিত্তি আন্তর্জাতিক আইনে নেই।”
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করা দেশগুলোর স্বার্থকে লক্ষ্যস্থল করতে পারে তেহরান।
রেজায়ি বলেছেন, “আমরা নিকটবর্তী সবগুলো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার জন্য বলছি, অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু বলে বিবেচনা করবো।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘বাঁচিয়ে রাখার জন্য’ সমর্থন দেওয়া যে কোনো দেশকে অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, সংঘাতের ক্ষেত্রে ‘কী ঘটে’ ওয়াশিংটন তা পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানের বিষয়ে তিনি বলেছেন, “তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছতে অত্যন্ত আগ্রহী কিন্তু আমার মতে সঠিক সমঝোতাটি করার জন্য তারা প্রস্তুত না।”
আরও পড়ুন:
একাধিক ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি ইরানের
'শক্তিশালী অবস্থানে' থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চান ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের 'নিষেধাজ্ঞা ও চাপ' সমস্যার সমাধান নয়: চীন
ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’: ইরানের অর্থনীতিতে কতটা ধাক্কা দিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানকে সমর্থন দেওয়া যে কোনো দেশকে পরিণতি ভোগ করতে হবে: ট্রাম্প