এক বিবৃতিতে ‘ইরান পরমাণু অস্ত্রের পেছনে ছুটছে না’ বলে দেশটির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুলনামূলক মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
Published : 13 Jul 2024, 05:22 PM
ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রসংশা করেছেন আর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত ইরান তাদের চাপে সাড়া দেবে না।
শনিবার দেওয়া এই বিবৃতিতে ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটছে না’ বলে দেশটির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুলনামূলক মধ্যপন্থী পেজেশকিয়ান, যিনি চলতি মাসের প্রথমদিকে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টরপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, তেহরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিত্রতার আরও বিস্তৃতি ঘটাবে এবং ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে।
দৈনিক তেহরান টাইমসে প্রকাশিত 'নতুন বিশ্বের প্রতি আমার বার্তা' শীর্ষক ওই বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, “অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাস্তবতা বুঝতে হবে যে, ইরান চাপে সাড়া দেয় না এবং দেবেও না। ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে পারমাণবিক অস্ত্র অন্তর্ভূক্ত না।”
সাবেক হার্ট সার্জন পেজেশকিয়ান (৬৯) বাস্তবধর্মী বৈদেশিক নীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে বর্তমানে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা নিয়ে উত্তেজনা হ্রাস করার এবং সামাজিক উদারীকরণ ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদ বর্ধিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওই পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিলের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে সম্মত হয়েছিল।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট নয়, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হাতে ইরানের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকায় পেজেশকিয়ান এসব প্রতিশ্রুতি কতোটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন তা নিয়ে অনেক ইরানি সন্দিহান।
পেজেশকিয়ান বলেন, “দুঃসময়ে চীন ও রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের কাছে এই বন্ধুত্বের মূল্য গভীর। রাশিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং ইরানের প্রতিবেশী। আমার প্রশাসন আমাদের এই সহযোগিতার সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তেহরান সেগুলোতে সক্রিয় সমর্থন দেবে।
"ইরানের জনগণ আমাকে দৃঢ় সমর্থন দিয়ে দায়িত্ব অপর্ণ করেছে যেন এই অঞ্চল ও বিশ্বে আমাদের অধিকার, আমাদের মর্যাদা ও আমাদের প্রাপ্য ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা চালিয়ে যেতে পারি।
“এই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টায় আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের আমি অবারিত আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”