Published : 25 Sep 2025, 11:21 AM
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) মাঠ পর্যায়ের একটি দপ্তরে বন্দুক হামলায় এক বন্দি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে মারাত্মকভাবে আহত করার পর বন্দুকধারী আত্মহত্যা করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবারের এ ঘটনায় বন্দুকধারী হামলা চালাতে আইসিই-র ওই দপ্তরের নিকটবর্তী একটি ছাদ ব্যবহার করেন। সেখান থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে যেটিতে ইংরেজিতে ‘অ্যান্টি-আইসিই’ লেখা ছিল; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সদস্যরা এ হামলাকে ‘বামপন্থিদের দ্বারা প্ররোচিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতার সর্বশেষ উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তারা আইনপ্রয়োগকারী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অপবাদ দেওয়ার মাধ্যমে ঘৃণা উস্কে দেওয়ার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ও অন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন।
এএফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল এক্স এ একটি ছবি পোস্ট করে সেখানে সন্দেহভাজন ব্যবহার করেনি এমন গুলি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে গুলির একটি রাউন্ডের আবরণে ‘অ্যান্টি-আইসিই’ লেখা আছে।

পোস্টে প্যাটেল লিখেছেন, “তদন্ত চলমান থাকাকালীন প্রাথমিক এক পর্যালোচনায় পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে এই হামলার পেছনে একটি আদর্শিক অনুপ্রেরণা ছিল।”
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড নিরাপত্তামন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এই ঘটনায় এ পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণ অনুযায়ী বন্দুকধারী আইসিইকে লক্ষ্যস্থল করেছিল।”
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আইসিই বিরোধী সহিংসতায় ইন্ধন যোগানোর জন্য ‘উগ্র বাম ডেমোক্র্যাটদের’ দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “উগ্র বাম ডেমোক্র্যাটরা ধারবাহিকভাবে আইসিইকে ধ্বংস করার আহ্বান জানাচ্ছে আর আইসিই কর্মকর্তাদের নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করছে।”
সম্প্রতি কট্টর রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতা চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘উগ্র বাম সন্ত্রাসীরা’ আইনপ্রয়োগকারীদের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ আর তাদের ‘অবশ্যই থামাতে হবে’।
ট্রাম্প জানান, ‘অভ্যন্তরীণ এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য’ চলতি সপ্তাহে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন।
তবে নিজের এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এ ঘটনায় আইসিইর নিহত বন্দি বা আত্মহত্যাকারী বন্দুকধারী, কারও নাম প্রকাশ করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।
পরে ফক্স নিউজে হাজির হয়ে মন্ত্রী নোয়েম গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোকে নিশ্চিত করে জানান যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে জোশুয়া জ্যান (২৯) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, জোশুয়া নিকটবর্তী একটি ভবনের ছাদ থেকে আইসিই ভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছিল।
এই গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে জোশুয়া জ্যানের নাম জড়িয়ে অনলাইনে আলোচনা শুরু হলে রয়টার্স তার বড় ভাই নোয়ার সঙ্গে কথা বলে।
নোয়া জ্যান (৩০) জানান, তার ছোট ভাইয়ের আইসিইর বিষয়ে কোনো নেতিবাচক অনুভূতি ছিল কি না, তা তার জানা নেই।
তিনি বলেন, “তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এমন কোনো কিছু আমার জানা নেই।”
নোয়া ডালাস থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তরে ম্যাককিনিতে বসবাস করেন। জোশুয়াও সেখানেই থাকতেন।