Published : 17 Apr 2026, 01:20 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ২০ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই অবস্থায় আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, এমন আশাবাদ বাড়ছে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়া।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের লনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা দেখব কী হয়। তবে আমার মনে হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি আছি আমরা।”
এর কয়েক ঘন্টা পর নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে।”
এর আগে সাংবাদিকদের কাছে করা মন্তব্যে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি মনে করেন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার সুযোগ আছে যুক্তরাষ্ট্রের।
“আর যদি এটা হয়, তেলে দাম অনেক কমে যাবে, দাম করে যাবে, মূল্যস্ফীতি কমে যাবে আর এগুলোর চেয়েও আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে আপনাদের পারমাণবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে না,” বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, ৮ এপ্রিল থেকে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামী সপ্তাহের পর আর বাড়ানোর দরকার হবে কি না, তা নিশ্চিত নন তিনি। তিনি আরও জানান, তেহরান একটি চুক্তি করতে চায়।
তিনি বলেন, “বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালো, এটা বিশ্বাস করা যতটা কঠিন ততটা। আর আমার মনে হয় এটি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে বোমাবর্ষণ ও অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অবরোধের সম্মিলিত ফল।”
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন আর এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্য বাড়তে শুরু করে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য একটি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদি লেবাননের যুদ্ধবিরতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তারিত শান্তি চুক্তির পথ পরিষ্কার করে দেয়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য জয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এই প্রশাসন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করার জন্য ও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার পথ থেকে সরানোর জন্য এখন পর্যন্ত কঠিন লড়াই করে চলছে।
আরও পড়ুন: