১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের খার্ক দ্বীপে হামলা শঙ্কায় ফেলেছে চীনকে, কেন?

ইরান থেকে খার্ক দ্বীপ হয়ে বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল যায় চীনে। যুদ্ধের প্রভাবে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে শঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীনের মানুষ।

ইরানের খার্ক দ্বীপে হামলা শঙ্কায় ফেলেছে চীনকে, কেন?
ইরানের খার্ক দ্বীপ। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Mar 2026, 12:50 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

ইরানের খার্ক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চীনকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এই খার্ক দ্বীপ থেকে। আর এই দ্বীপ হয়ে বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল যায় চীনে।

ফলে দ্বীপটিতে হামলার খবর প্রকাশ হওয়ার পরই চীনে মানুষজনের মধ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের এই ‘মুকুটের মণি’ (খার্ক দ্বীপ) ধ্বংস করে দেবে মার্কিন বাহিনী। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে চীন।

যদিও ট্রাম্প ওই দ্বীপে হামলা চালালেও জ্বালানি অবকাঠামো এখনও অক্ষত রেখেছেন। তবে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে খার্ক দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস করবেন তিনি।

রোববার ট্রাম্প নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেছেন, নিছক মজা করেই দ্বীপটিতে মার্কিন বাহিনী ফের আঘাত হানতে পারে।

চীনে কীভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে?

ইরান উপকূল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে প্রবাল দ্বীপ খার্ক। হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান।

ইরানের ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ থেকে রপ্তানি হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পৌঁছোতে দ্বীপটি ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শুরু থেকে ইরান এ দ্বীপ থেকে এক কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। 

এই খার্ক দ্বীপে বহু ট্যাঙ্কারে সম্প্রতি তেল ভরতেও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এপি। ইরান থেকে খার্ক দ্বীপ হয়ে বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল যায় চীনে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল কেনে চীন। ২০২৪ সালে ইরান যত তেল রপ্তানি করেছিল, তার ৯১ শতাংশই চীন কিনেছিল। 

গত বছর প্রতি দিন ইরান থেকে গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে চীন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে মূলত তেল কেনে চীনের শ্যাংডং প্রদেশের বেশ কিছু তেল শোধনাগার।

তেল আমদানির কথা বিবেচনায় নিলে যুদ্ধের প্রভাবে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া প্রথম দেশই হবে চীন, যদি ইরান থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়। আর সরবরাহ কমে গেলে বৈশ্বিক অশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। 

ইরানে বাড়তে থাকা যুদ্ধ, বিশেষ করে খার্কে হামলার পর চীনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া মানুষজন গ্যাস স্টেশনে ভিড় করতে শুরু করেছে। গাড়ির চালকেরা তেল ট্যাঙ্ক ভরে তেল কিনতে শুরু করেছেন, গ্যাসোলিন এবং ডিজেলের দামও বেড়ে গেছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত চীনে জ্বালানির দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চেই শোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ করেছে চীন। উদ্বেগ থেকেই চীনের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি।