Published : 28 Aug 2025, 09:34 PM
বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার রানওয়েতে ভেঙে পড়েছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। পাইলট বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই দুর্ঘটনা খতিয়ে দেখে এ সপ্তাহে প্রকাশ করা একটি প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে সিএনএন।
আর এতেই বলা হয়েছে যে, বিমানটির পাইলট মাঝ আকাশে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লকহিড মার্টিনের প্রকৌশলীদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে কথা বললেও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে বিমান থেকে প্যারাশুটে চেপে ঝাঁপ দেন পাইলট।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ জানুয়ারির। বিমানটি ভেঙে পড়ার সময় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানের নোজের হাইড্রোলিক লাইনে বরফ জমে ছিল। ল্যান্ডিং গিয়ারেও ছিল বরফ।
উড্ডয়নের পর চালক ল্যান্ডিং গিয়ার প্রত্যাহারের (রিট্র্যাক্ট) চেষ্টা করেও পারেননি। আবার সেই গিয়ার নামানোর চেষ্টা করলে বিমানের নোজ গিয়ারও লক হয়ে যায়। সে সময়ই পাইলট যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রায় ৫০ মিনিট ধরে ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশ মেনে যান্ত্রিক গোলযোগ সারানোর চেষ্টা করলেও সমাধান হয়নি। ভিডিওতে দেখা গেছে, যুদ্ধবিমানটি আকাশ থেকে ঘূর্ণি খেয়ে নিচে পড়ে যায়। পাইলট তারি আগেই বিমান থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, বিমানের নোজের হাইড্রলিক তরলের তিন ভাগের এক ভাগই ছিল পানি। ঠান্ডার কারণেই সমস্যা হয়েছিল। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
যুদ্ধবিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল। সেন্সরে তখন দেখা যাচ্ছিল, বিমানটি মাটিতে আছে এবং বিমান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ফলে পাইলটকে শেষমেষ বেরিয়ে আসতে হয়েছিল।
তদন্ত শেষে বলা হয়, পাইলট ও কনফারেন্স কলে থাকা বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত, ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট তদারকিতে না থাকা—সব মিলিয়েই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই দুর্ঘটনার ৯ দিন পর একই ঘাঁটিতে আরেকটি এফ-৩৫-এ একই ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে লকহিড মার্টিনের এ-৩৫ যুদ্ধবিমান এর প্রযুক্তি এবং বেশি দামের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে যুদ্ধবিমানটির দাম কমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাউন্টেবিলটি দপ্তর জানায়, এফ-৩৫ প্রোগ্রাম ২০৮৮ সাল পর্যন্ত চলবে। এতে মোট দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হতে পারে।