Published : 22 Feb 2026, 04:31 PM
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বদিকে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখিয়ারে সমুদ্রসৈকতে ৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ ভেসে এসেছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
এ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে দুই নারীর মৃতদেহও আছে বলে তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কাসর আল-আখিয়ার থানার তদন্তপ্রধান হাসান আল-গাউইল শনিবার বলেন, একটি শিশুর মৃতদেহও ভেসে এসেছিল কিন্তু বড় বড় ঢেউয়ের কারণে ওই মরদেহটি ফের সমুদ্রে চলে গেছে বলে ওই এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। মৃতদেহটি খুঁজতে কোস্টগার্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যাদের মৃতদেহ তীরে ভেসে এসেছে তারা সবাই কৃষ্ণাঙ্গ; লোকজন শহরের পশ্চিমাঞ্চলের এমহামিদ আল-শরিফ সৈকতে ওই মরদেহগুলো পায় এবং পরে থানায় খবর দেয়।
নেটোর মদদপুষ্ট অভ্যুত্থানে ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে যেতে চাওয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পথে পরিণত হয়। সশস্ত্র সংঘাত ২০১৪ সালের পর থেকে লিবিয়াকে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ভাগও করে রেখেছে।
উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ৭৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সৈকতে ভেসে আসা মৃতদেহের ছবি এরই মধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, রয়টার্সও সেগুলো দেখেছে। ছবিতে থাকা কিছু কিছু মরদেহ তখনো সমুদ্রে ভাসতে সহায়ক কালো বয়ার মধ্যেই ছিল।
“মৃতদেহগুলো নিয়ে যেতে রেড ক্রিসেন্টকে খবর দিয়েছি আমরা। যে মরদেহগুলো পেয়েছি সেগুলো অক্ষত রয়েছে, আরও দেহ ভেসে আসতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি,” বলেছেন গাউইল।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমের শহর জুওয়ারা উপকূলের কাছে ৫৫ আরোহী নিয়ে একটি রাবারের নৌকা উল্টে যাওয়ার পর দুই শিশুসহ ৫৩ জন হয় মৃত অথবা নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা।
এদিকে কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে লিবিয়ায় অল্পবয়সী মেয়েরাসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ধর্ষণ, নির্যাতন, দাসত্ব বরণ ও হত্যার শিকার হওয়ার ব্যাপক ঝুঁকিতে আছে বলে জানানো হয়েছিল।
মানবাধিকার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অভিবাসনপ্রত্যাশী বোঝাই নৌকা যেন দেশটিতে ফিরে না যায় সেজন্য একটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারিরও আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।