১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালে টানা বৃষ্টিতে বন্যা, ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৬৬

দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টির মৌসুম শেষ হতে চলেছে, এবার এই সময়টিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Sep 2024, 11:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:33 AM

নেপালে অবিরাম বৃষ্টিতে দেখা দেওয়া বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ৬৬ জনে দাঁঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬৯ জন। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দিল কুমার তামাং রয়টার্সকে বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৬৯ জন নিখোঁজ ও ৬০ জন আহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে যান চলাচলও বিঘ্নিত হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিমালয় কোলের দেশটির অধিকাংশ নদনদীর পানির বেড়ে আশপাশের রাস্তা ও সেতুর ওপর উঠে গেছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টির মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের এক সপ্তাহ পর শেষ হতে চলেছে। এই সময়টিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। 

পুলিশের মুখপাত্র দান বাহাদুর কারকি জানান, মহাসড়কগুলোর ২৮টি এলাকায় ভূমিধস হয়েছে, সেসব স্থানের আবর্জনা সরিয়ে রাস্তাগুলো খুলে দিতে কাজ করছে পুলিশ। 

রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে আবহাওয়া কর্মকর্তা বিনু মহারাজন জানিয়েছেন, রোববারের আগে সম্ভবত বৃষ্টি থামবে না। পুরো অঞ্চলজুড়ে চলা এই বৃষ্টিপাতের জন্য একটি নিম্নচাপ দায়ী। 

রয়টার্সকে তিনি বলেন, “রোববার সকাল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে আসতে পারে।” 

কারকি আরও জানান, নেপালের মধ্যাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ৫০ মিলিমিটার (২ ইঞ্চি) থেকে অতি ভারি ২০০ মিলিমিটারেরও (৮ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টি হতে পারে। অন্য এলাকাগুলোতে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।  

কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিনঝি শেরপা জানান, অভ্যন্তরীণ বহু ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হওয়ার পর উপচে পড়া নদীর পানিতে চারদিকে পাহাড় ঘেরা রাজধানীর সড়ক ও বাড়িগুলো তলিয়ে যায়। 

দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের কোশি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক সময়ে নদীটি দিয়ে দেড় লাখ কিউসেক (প্রতি সেকেন্ডে এ ঘনফুট) পানি প্রবাহিত হলেও এখন সাড়ে চার লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে।    

দক্ষিণপূর্বাঞ্চল ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা রাম চন্দ্র তিরওয়ারি জানান, কোশি নদীর পানি বেড়েই চলেছে। 

প্রতি বছর বৃষ্টির মৌসুমে নেপালে হড়কা বান ও ভূমিধসে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়।