১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধের হুমকি মার্কিন সামরিক বাহিনীর

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে তা ‘কঠোরভাবে মোকাবেলার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।

সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধের হুমকি মার্কিন সামরিক বাহিনীর
স্যাটেলাইট চিত্রে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2026, 12:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:24 PM

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা সোমবার থেকে ইরানের সবগুলো বন্দর অবরোধ করা শুরু করবে। 

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ম্যারাথন শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির সর্বশেষ চেষ্টা এটি। 

রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, “ইরানি বন্দরগুলো ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে থাকা ও সেখান থেকে বের হতে থাকা সব সব দেশের সব ধরনের সামুদ্রিক জলযানের ক্ষেত্রে এ অবরোধ কার্যকর হবে।”   

ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অবরোধ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে তারা। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে যাবে না বা সেখান থেকে আসছে না, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী এমন জাহাজগুলোর চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেবে না।”  

আল জাজিরা লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পুরো প্রণালি অবরোধ করার ও ইরানকে মাশুল দেওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন সেন্টকমের বিবৃতিতে সেখান থেকে সরার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   

আল জাজিরার ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘পরস্পরবিরোধী তথ্য’ আসছে আর ‘সেখানে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে’।  

তিনি বলেন, “ট্রাম্প বলেছিলেন, অবরোধে হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার ও প্রণালিটিতে ঢোকার চেষ্টা করা সব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে; কিন্তু সেন্টকম বলছে, তারা শুধু ইরানি বন্দরগুলোতে ঢোকার ও সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।”   

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তেহরান কার্যকরভাবে বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরু ভৌগলিক জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর থেকে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, এতে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।  

ইরান প্রণালিটি দিয়ে তাদের নিজেদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি অল্প কিছু দেশের জাহাজকে প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর কথা আলোচনা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা। 

ট্রাম্পের অবরোধ হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করবে আর তা ‘কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে’। 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।    

ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধ আবার শুরু হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

আরও পড়ুন: 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ হবে 'বড় সামরিক জুয়া'

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার পর তেলের মূল্য ফের ১০০ ডলা