১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার পর তেলের মূল্য ফের ১০০ ডলার ছাড়াল

বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার পর তেলের মূল্য ফের ১০০ ডলার ছাড়াল
একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে নোঙর করে আছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2026, 10:33 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:24 PM

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার হরমুজ প্রণালি ‘অবরোধ’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, এর জেরে বিশ্ব বাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের মূল্য আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। 

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার এশিয়ার জ্বালানি বাজার খোলার পর ব্যারেল প্রতি তেলের মূল্য ১০০ ডলারের উপরে উঠে যায়। বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৩৭ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৯ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৪ ডলার হয়েছে।  

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শনিবার বিকাল থেকে শুরু হওয়ার পর টানা ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হবে, এমন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। 

গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই সপ্তাহের জন্য একটি শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হওয়ার পর তেলের মূল্য ১০০ ডলারের অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল।  

এই প্রণালিটি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি সংঘাতের এক মূল কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপর থেকে গত ৪৪ দিন ধরে ইরান প্রণালিটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে তারা। 

প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে। যদিও ভারত ও মালয়েশিয়ার মতো কিছু দেশ তাদের জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে এ বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল, গ্যাসের মূল্য বেড়ে যায়। সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হওয়ার পর এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজারগুলোর মূল্য সূচকের পতন ঘটে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচকের অবনমন ঘটে ১.১৪ শতাংশ আর দক্ষিণ কোরিয়ার ১.২ শতাংশ।    

প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের তেল, গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর ইরানের যুদ্ধের কঠিন প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টক ফিউচারও ওয়াল স্ট্রিট খোলার পর দরপতন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।