১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলের হুমকির পর গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধের আহ্বান

সীমানা পেরিয়ে অগ্নিসংযোগকারী ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল হামাস ফের চালু করলে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। এরপরই গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধে বাবা-মায়েদের সতর্ক করেছে পপুলার কমিটিগুলো।

ইসরায়েলের হুমকির পর গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধের আহ্বান
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 05:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ করতে বাবা-মায়েদের সতর্ক করে দিয়েছে স্থানীয় পরিচালনা কমিটিগুলো। 

সীমানা পেরিয়ে অগ্নিসংযোগকারী ঘুড়ি ওড়ানোর কৌশল হামাস ফের চালু করলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। এর পরপরই গাজায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হল।

গাজায় বাস্তুচ্যুতদের শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘পপুলার কমিটিগুলো’ সোমবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে এই বার্তা দেয়।

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের এক সূত্র জানিয়েছে, তাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে পপুলার কমিটিগুলো বলেছে, "মাঠপর্যায়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি এবং ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ করতে সম্ভব সব কিছু করছি। এটি আমাদের শিশুদের শৈশবকে সীমিত করার জন্য নয়, বরং যারা ইতোমধ্যে খেলাধুলা ও নিরাপদে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত,  তাদের নিষ্পাপ জীবন রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"

এর আগে ২০১৮ সালে গাজাবাসী সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে অগ্নিসংযোগকারী বেলুন ও ঘুড়ি পাঠিয়েছিল। 

এর ফলে ইসরায়েলের শত শত একর উন্মুক্ত প্রান্তর ও কৃষিজমিতে আগুন ধরে যায়। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধের প্রতিবাদেই তখন ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

সীমান্তঘেঁষা গ্রামের ইসরায়েলিদের আতঙ্ক

গত এক মাসে গাজা থেকে বেশ কিছু ঘুড়ি উড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তবে এগুলোতে কোনো দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক ছিল না। 

তারপরও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার শিকার সীমান্তবর্তী এসব গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর প্রেক্ষিতে রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের দিকে ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে এর জন্য 'দায়ী ব্যক্তিদের' লক্ষ্য করে চিহ্নিত হত্যা অভিযান (টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন) চালানো হবে। 

পাশাপাশি যেসব এলাকা থেকে এগুলো পাঠানো হবে, সেসব এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

গাজা শহরের বাসিন্দা উম্মে মোহাম্মদ মেসেজিং অ্যাপে রয়টার্সকে জানান, তার ১০ বছর বয়সী ছেলে আহমেদ যেন কোনো বিপদে না পড়ে, সে বিষয়ে তিনি শংকিত।

তিনি বলেন, "প্রতি গ্রীষ্মেই আমার ছেলে আহমেদ আর গলির অন্যান্য বাচ্চারা বিনোদনের জন্য ঘুড়ি উড়ায়। কিন্তু এখন থেকে আমি আর তাকে ঘুড়ি উরাতে দেব না।"

পরস্পরবিরোধী অভিযোগ

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, গাজাবাসীকে সীমান্ত অভিমুখে ঘুড়ি ওড়াতে উৎসাহিত করে ইসরায়েলকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে হামাস।

অন্যদিকে, হামাসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তারা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, "গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ইসরায়েল ভুয়া অজুহাত খাড়া করছে।"

দ্বিতীয় এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫ সালের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'-এর কাছেও এই ঘুড়ি ওড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে ইসরায়েল।