Published : 09 Sep 2026, 10:51 PM
যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় হঠাৎ প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের কারণে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং লাখ লাখ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল এয়ার ট্র্যাফিক সার্ভিস’-এর (এনএটিএস) ফ্লাইট প্রসেসিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। এতে প্রায় সব বড় বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটে।
এর জেরে গত মঙ্গল ও বুধবার দুই দিনে ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল ও কয়েকশ’ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কেবল বুধবারেই বাতিল হয়েছে ৩৪৭ টি ফ্লাইট।
লন্ডনের হিথ্রো, গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম এবং এডিনবরাসহ যুক্তরাজ্যের অন্যান্য আরও বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
হিথ্রো বিমানবন্দর নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সব আগমনী ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, রায়ানএয়ার, ইজিজেট সহ প্রধান বিমান সংস্থাগুলোর শিডিউল ওলটপালট হয়ে গেছে।
রায়ানএয়ারের প্রায় দেড় লাখ এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কয়েক হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। লাখ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরের টার্মিনালে ও রানওয়েতে উড়োজাহাজের ভেতর ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। অনেককে বিমানবন্দরের মেঝেতে ঘুমাতেও দেখা গেছে।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ার এর তথ্য অনুযায়ী, হিথরো বিমানবন্দর থেকেই অন্তত ১০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আর গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ৩০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দেরিতে চলাচল করেছে অন্তত ২৫০ ফ্লাইট।
এডিনবরা, ডাবলিন, লুটন, বার্মিংহ্যাম-সহ ব্রিটেনের একাধিক এয়ারপোর্ট থেকেও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট বিভ্রাটের জেরে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। অনেক বিমানবন্দরে চার ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পর যাত্রীদেরকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
বহু যাত্রীকে বিমানবন্দরে বা বিমানের ভেতরে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকতে হয়। ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি লাগেজ ফিরে পাওয়া নিয়েও চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে।
এনএটিসি জানিয়েছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাদের ‘ফ্লাইট ডেটা প্রসেসিং সিস্টেম’ প্রভাবিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
তবে সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। সমস্যায় পড়া যাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে এনএটিএস।