Published : 28 Jul 2025, 03:09 PM
সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ থামাতে ও অস্ত্রবিরতি নিশ্চিতে মালয়েশিয়ায় বৈঠকে বসেছেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট।
পঞ্চম দিনে গড়ানো দুই দেশের সীমান্ত সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সোমবার পুত্রজায়ায় তাদের এ বৈঠক শুরু হয়েছে বলে মালয়েশিয়ার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মালেয়েশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রদূতরাও এ বৈঠকে আছেন।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের চেয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাসভবনে এ বৈঠক হচ্ছে, বলেছেন ওই কর্মকর্তা।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয়েই গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাতের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ বেশ পুরনো। এ নিয়ে মাঝেমাঝে ছোটখাট সংঘাতও হয়েছে।
চলতি বছর মে-র শেষদিকে তেমনই এক সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার এক সেনা নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক ও কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। দুই দেশই সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র জড়ো করতে শুরু করে।
দেশদুটির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটলও এতই চওড়া হয় যে এর প্রভাবে থাইল্যান্ডের নড়বড়ে জোট সরকার ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।
উত্তেজনার এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার শুরু হয় সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা, পরে তা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ে রূপ নেয়।
প্রতিবেশী এ দুই দেশের সংঘাত এরই মধ্যে ৩০ এর অধিক প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিকই ২০ জনের বেশি। দুই দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে দুই লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট এর আগে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজক। তাদের সঙ্গে চীনও থাকছে।
“বৈঠকের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিগগির অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছানো, এ বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তার প্রস্তাবে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা সম্মত হয়,” আলোচনার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া রওনা হওয়ার আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে এমনটাই বলেন মানেট।
এর আগে ট্রাম্প রোববার বলেছিলেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুই দেশই তাদের বিরোধ মেটাতে চায় বলে তার ধারণা।
তিনি জানান, দেশ দুটির নেতাদের তিনি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, যদি তারা সংঘর্ষ বন্ধ না করে, তাহলে তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো বাণিজ্য চুক্তি হবে না।
এদিকে থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম বলেছেন, কম্বোডিয়ার আন্তরিকতা নিয়ে তার সন্দেহ আছে।
“কম্বোডিয়ার ব্যাপারে আমাদের আস্থা নেই, এখন পর্যন্ত তাদের কার্যকলাপে সমস্যার সমাধানে আন্তরিকতার ঘাটতি স্পষ্ট। কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, কিন্তু সবাই শান্তি দেখতে চায়। কেউই এমন সহিংসতা দেখতে চায় না যাতে বেসামরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়,” মালয়েশিয়া রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন ফুমথাম।
কম্বোডিয়া বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, থাইল্যান্ডের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নম পেন বলেছে, ব্যাংককই সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডের আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘাত বেধে যাওয়ার পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানান এবং এ নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনও আলোচনায় সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়।
থাইল্যান্ড এতদিন বলে আসছিল, তারা অস্ত্রবিরতির পক্ষে নীতিগতভাবে একমত তবে আলোচনা হতে হবে দ্বিপাক্ষিক। অন্যদিকে কম্বোডিয়া শুরু থেকেই আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহলের সম্পৃক্ততা চাইছিল।
থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া অবিলম্বে অস্ত্রবিরতি আলোচনায় বসতে রাজি