অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষের পথে, হংকংয়ে আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৯৪
নির্মাণ সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা এবং অনিরাপদ নির্মাণ সামগ্রীর কারণে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, মনে করছে পুলিশ।
প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আগুনে বিশাল আবাসিক কমপ্লেক্সের অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যু ও দুই শতাধিক নিখোঁজের ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে বলে জানিয়েছে হংকংয়ের দমকল কর্তপক্ষ।
শহরটির উত্তরের জেলা তাই পো-র ওয়াং ফুক কোর্ট হাউজিং কমপ্লেক্সকে ধ্বংস করে দেওয়া অগ্নিকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও তারা নিশ্চিত করেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ওয়াং ফুক কোর্ট আট ব্লকের ২০০০ আবাসিক ইউনিটের একটি আবাসিক কমপ্লেক্স। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই টাওয়ার ব্লক নতুন করে নির্মাণের কাজ চলছিল। ভবনগুলোতে ছিল বাঁশ আর জালের ঘেরাটোপ।
পুলিশ মনে করছে, নির্মাণ সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা এবং অনিরাপদ নির্মাণ সামগ্রীর কারণে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দায়ী সন্দেহে নির্মাণ কোম্পানির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ধোঁয়া ওঠা কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকালেও দমকলকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
“ভেতরে সম্ভাব্য হতাহত নেই এটা নিশ্চিতে ৭টি ভবনে ঢোকার চেষ্টা করবো আমরা,” সাংবাদিকদের বলেছেন দমকল বিভাগের উপপরিচালক ডেরেক চান।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৭৯ জন নিখোঁজ তালিকায় ছিল। এখন পর্যন্ত এ তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।
সাহায্য চেয়ে দমকল বিভাগে আসা ফোনগুলোর মধ্যে ২৫টির নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। এর মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় তিনটি ফোন এসেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, বলেছেন চান।
“আশা করছি, তারা জীবিত আরও অনেককে ভবনের ভেতর পাবে। আমার ধারণা, তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছে, দমকলকর্মীরা অনেক করেছে, এটা এমন এক বিপর্যয় যেটা কেউই চায়নি,” বলেছেন কমপ্লেক্সের বাসিন্দা জেকি কোওক।
ভবনের উপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীরা আগুনের তীব্র উত্তাপ, গাঢ় ধোঁয়া ও ধসে পড়তে থাকা ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে তীব্র লড়াই করেছেন।
বৃহস্পতিবার একজন উদ্বিগ্ন মা তার মেয়ের স্নাতকোত্তরের অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি হাতে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে সন্তানকে খুঁজছিলেন।
ওই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ৯০০ বাসিন্দা থাকছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ৫২ বছর বয়সী ওই নারী কাঁদতে কাঁদতে জানান, “আমার মেয়ে আর তার বাবা এখনও বাইরে আসেনি। আমাদের ভবন বাঁচাতে দমকল বাহিনীর কাছে পানি ছিল না।”
হতাহতদের বেশিরভাগই মিলেছে কমপ্লেক্সের দুটি বহুতল ভবন থেকে, দমকলকর্মীরা একাধিক ভবন থেকে অনেক জীবিতকে উদ্ধার করেছেন, বলেছেন চান। তবে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
শুক্রবার প্রথম প্রহরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগুনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৪ করে। এদের মধ্যে দুজন ইন্দোনেশীয় গৃহকর্মী রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কনসুলেট।
১৯৪৮ সালের পর অগ্নিকাণ্ডে এত প্রাণহানি আর দেখেনি হংকং। সেবার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ১৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পুলিশ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আবাসিক কমপ্লেক্সটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশনের দুই পরিচালক ও পরামর্শদাতা এক প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ কোম্পানির অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ভবন সংক্রান্ত নথিপত্র, কর্মীদের নাম, ১৪টি কম্পিউটার ও তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে।
