১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুন: মৃত্যু বেড়ে ৮৩, নিখোঁজ ৩০০, আটক ৩

হংকংয়ে প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। দমকলকর্মীরা আপাতত আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুন: মৃত্যু বেড়ে ৮৩, নিখোঁজ ৩০০, আটক ৩
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Nov 2025, 12:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:12 PM

হংকংয়ের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সের বহুতল কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ৩০০ জন।

দমকলকর্মীরা আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এরই মধ্যে ঝরে গেছে বহু প্রাণ। এতগুলো মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী সন্দেহে ওই আবাসন সংস্কারের দায়িত্বে থাকা একটি নির্মাণ কোম্পানির তিন হতাকর্তাকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে হংকং পুলিশ।

 ওয়াং ফুক কোর্ট আট ব্লকের ২০০০ আবাসিক ইউনিটের একটি আবাসিক কমপ্লেক্স। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই টাওয়ার ব্লক নতুন করে নির্মাণের কাজ চলছিল। ভবনগুলোতে ছিল বাঁশ আর জালের ঘেরাটোপ।

পুলিশ মনে করছে, নির্মাণ সংস্থার দায়িত্বে অবহেলা এবং অনিরাপদ নির্মাণ সামগ্রীর কারণে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। হংকংয়ে প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

বুধবার হংকংয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে নগরীর উত্তরাংশের তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট নামের ওই আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। 

প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর দমকল কর্মীরা আগুন অনেকটা নেভাতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তীব্র তাপ ও ঘন ধোঁয়ার মধ্যে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন, যাতে ওপরের তলায় আটকা পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছানো যায়। 

ভিডিওতে দেখা গেছে, দমকল কর্মীরা ফ্ল্যাশলাইট নিয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে তল্লাশি চালাচ্ছেন। একজন উদ্বিগ্ন মা তার মেয়ের স্নাতকোত্তরের অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি হাতে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে সন্তানকে খুঁজছিল। 

ওই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ৯০০ বাসিন্দা থাকছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভুক্তভোগী মা জানান, “আমার মেয়ে আর তার বাবা এখনও বাইরে আসেনি। আমাদের ভবনের আগুন নেভানোর জন্য দমকল বাহিনীর কাছে পানি ছিল না।”

পুলিশ প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন ফার্মের দুই পরিচালক এবং এক প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ফার্মটি ঠিকাদারির ভিত্তিতে ভবন রক্ষণাবেক্ষষের কাজ করে থাকে। তাদের অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহারের কারণেই ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ওদিকে, হংকংয়ের পুলিশ সুপার আইলিন চুং বলেন, “আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, কোম্পানিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা গুরুতর অবহেলা করেছেন। যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে এতবড় প্রাণহানি ঘটে।”

বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ কোম্পানিটির দপ্তরে তল্লাশি চালিয়ে ওয়াং ফুক কোর্ট সংক্রান্ত সব নথি, কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধে প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।

আগুন লাগার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সবুজ নিরাপত্তা জাল ও বাঁশ দিয়ে ঘেরা ৩২তলা ভবনগুলোর অন্তত দুটি থেকে তখনও আগুনের শিখা বের হচ্ছিল।

চীনা ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীতে ভবন সংস্কারের কাজে বাঁশের ভারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে নিরাপত্তা–ঝুঁকি বিবেচনায় চলতি বছরের মার্চ থেকেই হংকংয়ে এর ব্যবহার সীমিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।