Published : 26 Feb 2026, 09:55 AM
কিউবা সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত একটি স্পিডবোটে করে তাদের জলসীমায় গিয়ে কিউবার টহল দলের ওপর গুলি ছোড়া চার নির্বাসিতকে হত্যা করেছে কিউবার বাহিনী। এ ঘটনায় আরও ছয় নির্বাসিত আহত হয়েছে।
বুধবারের এ ঘটনা এমন এক পর্যায়ে ঘটল যখন কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বেড়ে চলেছে, লিখেছে রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্পিডবোটে থাকা দলটি সরকারবিরোধী কিউবানদের দ্বারা গঠিত ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই হামলার ষড়যন্ত্রের জন্য অভিযুক্ত হয়ে ফেরারি ছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল। তাদের পরনে ছিল পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে এমন ছদ্মবেশী পোশাক আর সঙ্গে ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল, ঘরে তৈরি বিস্ফোরক, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও টেলিস্কোপিক সাইট।
স্পিডবোটটি কিউবার উত্তর উপকূলের ফ্যালকোনেস কে চ্যানেলের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল। এই অঞ্চলটি হাভানা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে। ওই সময় স্পিডবোটটি কিউবার বর্ডার পেট্রলের পাঁচ সদস্যের এক ইউনিটের দিকে এগিয়ে যায় আর গুলিবর্ষণ করে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত থাকায় কিউবার ভেতর থেকে আরেক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, “বন্দিদের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, তারা সন্ত্রাসবাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল।”

মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, আহতদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কিউবার টহল দলের কমান্ডারও গুলিতে আহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযান ছিল না আর মার্কিন সরকারের কোনো পেশাদারও এতে জড়িত ছিল না। কিউবার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে। তারপরও হাভানার মার্কিন দূতাবাস কী ঘটেছে তা যাচাই করার জন্য স্বতন্ত্রভাবে উদ্যোগ নেবে।
রুবিও বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমরা আমাদের নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করবো। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা বের করবো আমরা। এখানে অনেক কিছু ঘটতে পারতো। সংক্ষেপে বললে, এভাবে খোলা সাগরে গোলাগুলি অত্যন্ত অস্বাভাবিক।”
এ ঘটনা এমন এক সময় ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপ দেশটিতে প্রায় সব তেলের সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে আর কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে আটক করে তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে কিউবার এক ঘনিষ্ঠ মিত্রকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার রুবিও কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ‘চলমান স্থিতাবস্থাকে’ অস্থিতিশীল বলে অভিহিত করেন আর কিউবায় ‘নাটকীয় পরিবর্তন প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করেন।
ফ্লোরিডার মার্কিন রাজনীতিকরা পৃথক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। কিউবার বক্তব্য তারা বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছে।
নির্বাসিত বহু কিউবান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে। তাদের বড় একটি অংশ বসবাস করে ফ্লোরিডার মায়ামিতে। কিউবার সরকারকে উচ্ছেদ করা তাদের বহুদিনের স্বপ্ন। যে কোনোভাবে কিউবা সরকারের পতন চায় তারা। আগেও বিভিন্ন সময় কিউবা সরকারকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেছিল তারা।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৬১ সালে। এই ঘটনাটি ‘বে অব পিগস’ আক্রমণ হিসেবে পরিচিত। ওই সময় কিউবার ক্ষমতায় থাকা ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে কিউবার নির্বাসিতরা সিআইএর সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে দ্বীপটিতে হামলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
তবে সম্প্রতি এ ধরনের চক্রান্তের ঘটনা অনেক কমে এসেছিল। কিন্তু মার্কিন তেল অবরোধের কারণে কিউবায় তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে কিউবার সরকার অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন একটি ধারণা ছড়িয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরোধীরা এ পরিস্থিতিতে হয়তো সাহসী হয়ে উঠছে।