Published : 30 Aug 2023, 09:22 PM
আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে সংবিধানের সংশোধন প্রশ্নে আগামী ১৪ অক্টোবর ঐতিহাসিক এক গণভোটে রায় দেবে অস্ট্রেলিয়ার জনগণ।
বিবিসি জানায়, যদি ওই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় আসে তবে দেশটির সংবিধানে আদিবাসী এবং টোরেস স্ট্রেট দ্বীপবাসীদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পার্লামেন্টে তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় পরমার্শ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। যে কমিটি আদিবাসীদের উপর আইনের প্রভাব নিয়ে পার্লামেন্টেকে পরামর্শ দেবে।
যদিও ওই গণভোট আয়োজন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া, দেশটির প্রায় অর্ধশতাব্দীর ইতিহাসে কোনো গণভোট সফল হওয়ার নজির নেই।
আগামী ১৪ অক্টোবরের গণভোটে সফল হতে হলে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিতে হবে। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্যের অন্তত চারটিতে সংখ্যাগোরিষ্ঠ সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে।
অ্যাডিলেইডে মঙ্গলবার এক সমাবেশে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “এই ভোট আমাদের দেশকে একত্রিত করার এবং এটিকে আরও ভালো করার জন্য একটি বিরল সুযোগ।”
তিনি আরো বলেন, “দ্য ভয়েস হবে আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের একটি কমিটি, যেটি আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের দ্বারা নির্বাচিত হবে এবং সরকারকে পরামর্শ দেবে, যাতে আমরা আদিবাসী অস্ট্রেলীয়দের জন্য আরও ভাল ফলাফল পেতে পারি।
“আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে... এমন একটি ধারণাকে হ্যাঁ বলার জন্য, যার সময় হয়েছে - একটি আমন্ত্রণকে হ্যাঁ বলার জন্য যা সরাসরি আদিবাসী এবং টোরেস স্ট্রেট দ্বীপবাসীদের কাছ থেকে এসেছে।”
দ্য ভয়েস কী?
২০১৭ সালে ‘উলুরু স্টেটমেন্ট ফ্রম দ্য হার্ট’ নামে একটি ঐতিহাসিক নথিতে দ্য ভয়েসের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল।
আড়াইশ’র বেশি আদিবাসী নেতা দ্য ভয়েসের খসড়া তৈরি করেন। তারা ওই বিবৃতিকে সর্বোত্তম বলে বিবেচনা করেন। যদিও সেটি সর্বসম্মত নয়।
ওই বিবৃতিতে সংবিধানের যে অংশের সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয় তা ‘ফার্স্ট নেশন্স অস্ট্রেলিয়ান্স’ কে প্রভাবিত করবে।
উলুরু স্টেটমেন্ট কী বলছে?
আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা তাদের জীবন উন্নত করতে কাঠামোগত সমস্যা মোকাবেলা করার সময় নিজেদের ‘শক্তিহীনতা’ অনুভব করে বলে উলুরু স্টেটমেন্টে দাবি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় অ-আদিবাসীদের তুলনায় আদিবাসীদের গড় আয়ু কম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও তারা পিছিয়ে এবং নানা অপরাধে জড়িয়ে তাদের করাবন্দি হওয়ার প্রবণতা উচ্চ।
কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করে তাদের মূলস্রোতে সংযুক্ত করা যায় তা নিয়ে আদিবাসীদের সঙ্গে ঠিকঠাক আলোচনা হচ্ছে না বলে মনে করেন অনেকে।
উলুরু স্টেটমেন্টে সই করা অধ্যাপক মেগান ডেভিসে মনে করেন, ‘‘অ-আদিবাসী লোকজন ওইসব সম্প্রদায়ের জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যাদের কাছে তারা কখনও যায়নি এবং যাদের (আদিবাসী) সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।”
বিরোধীপক্ষ কী বলছে?
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এরই মধ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেক প্রতিনিধি পার্লামেন্টে এসে গেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বর্তমানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ১১ জন প্রতিনিধি আছেন। যা দেশটির পার্লামেন্টের মোট প্রতিনিধির ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
‘দ্য ভয়েসের পক্ষের লোকজন অবশ্য এই যুক্তির পাল্টা হিসেবে বলেছেন, একজন পার্লামেন্টে সদস্য তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তাদের পক্ষে পুরো আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থ দেখা সম্ভব না।
আদিবাসীদের পক্ষে এ সমর্থন সার্বজনীন নয়। কেউ কেউ মনে করেন, আদিবাসীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যেখানে আইনত বাধ্যবাধকতা থাকবে।