যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘যুদ্ধবিরতি না’, দীর্ঘ মেয়াদি শান্তি চুক্তি চায় রাশিয়া
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, মস্কো ইউক্রেইন নিয়ে এমন একটি চুক্তি চাইছে যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবে।
ইউক্রেইন যুদ্ধের মূল কারণগুলো সামাল দেবে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি চায় বলে জানিয়েছে রাশিয়া। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত তড়িঘড়ি কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না যা শেষ হওয়ার পরপরই আবার দ্রুত লড়াই শুরু হয়ে যাবে, জানিয়েছেন রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।
সোমবার ইউক্রেইন যুদ্ধের তিন বছর পূর্তিতে বার্তা সংস্থা আরআইএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, মস্কো ইউক্রেইন নিয়ে এমন একটি চুক্তি চাইছে যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবে।
আরআইএ-র দেওয়া উদ্ধৃতিতে রিয়াবকভ বলেছেন, “আমরা আমেরিকান পক্ষের দ্রুত যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়া যথেষ্ট আস্থার সঙ্গে শনাক্ত করতে পারি।
“কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদি নিষ্পত্তি ছাড়া একটি যুদ্ধবিরতি হচ্ছে দ্রুত আবার লড়াইয়ে পথে ফিরে যাওয়া। আর সংঘাত আবার শুরু হলে তা আরও গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে, রাশিয়া-আমেরিকার সম্পর্কও এই পরিণতি এড়াতে পারবে না। আমরা এটি চাই না।
“আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার। পর্যায়ক্রমে ইউক্রেইনে ও একে ঘিরে যা হচ্ছে তার মূল কারণগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করার একটি উপাদান যা আবশ্যিকভাবে যুক্ত করবে।“
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউক্রেইন যুদ্ধের অবসান নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। মস্কো জানিয়েছে, ওই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার শুরু করা ও ইউক্রেইনের জন্য আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
রিয়াবকভ জানান, ওই আলোচনায় ইউক্রেইনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রস্তাব করা হয়নি।
তিনি মস্কোর অবস্থান আবার জানান দিয়ে বলেন, “ইউক্রেইনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।”
পূর্ব মুখে নেটো জোটের ‘অনিয়ন্ত্রিত’ সম্প্রসারণের কারণেই মস্কো এ অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ইউক্রেইনে রুশ ভাষাভাষী জনগণের অধিকার পদদলিত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগও করেছেন তিনি।
রয়টার্স লিখেছে, এসব অভিযোগ রাশিয়া আগে থেকেই জানিয়ে আসছে যা কিইভ অস্বীকার করেছে। রাশিয়া ইউক্রেইন দখল করার জন্য ঔপনিবেশিক ধরনের নৃশংস যুদ্ধ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ কিইভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর।
