১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় ত্রাণকেন্দ্র পরিদর্শনে ট্রাম্পের দূত, ‘রক্তবন্যা বইছে’ বলছে মানবাধিকার সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূতের এই পরিদর্শন এমন সময়ে হল, যখন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ ইসরায়েলি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ঠিকাদারদের ত্রাণ বিতরণব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছে।

গাজায় ত্রাণকেন্দ্র পরিদর্শনে ট্রাম্পের দূত, ‘রক্তবন্যা বইছে’ বলছে মানবাধিকার সংস্থা
ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2025, 10:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ গাজায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন।

এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) পরিচালিত এক ত্রাণকেন্দ্র থেকে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন হাকাবি।

গাজার দক্ষিণের রাফা নগরীর কাছে ওই ত্রাণকেন্দ্রে তোলা ছবিতে উইটকফ এবং হাকাবিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

গাজায় উইটকফের এই পরিদর্শন এমন এক সময় হল, যখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (এইচআরডব্লিউ) ইসরায়েলি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে “ত্রুটিপূর্ণ” ত্রাণ বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিযোগ করে বলেছে, এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে প্রতিনিয়ত ‘রক্তবন্যা’ বইছে। 

গত মে মাসে  জাতিসংঘের ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার জায়গায় গড়ে ওঠে এই গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা। সেই থেকে এই ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছে প্রতিনিয়তই গুলি চলার খবর আসছে।

বুধবার ফিলিস্তিনের প্রায় দুর্ভিক্ষ কবলিত ভূখন্ড গাজার উত্তরাঞ্চলে মানবিক ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়। 

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর তার হাসপাতালে ৩৫টি মৃতদেহ এসেছে। পরে হাসপাতালটি জানায়, গুলির ঘটনায় অন্তত ৪৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

পৃথকভাবে গাজার হাসপাতালের সূত্রগুলো জানায়, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফা শহরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ও ইসরায়েলের সমর্থনে স্থাপিত জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে বুধবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় মে মাসের শেষ দিক থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলের ভাষ্য, তাদের সেনারা কেবল সতর্কীকরণ গুলি ছুড়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে গুলি করেনি। ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য হামাসকে দোষারোপ করেছে ইসরায়েল।

তবে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সাধারণ মানুষকে অনাহারে রাখাকে ইসরায়েলের যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের কারণেই গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবেই গাজার মানুষকে সাহায্য বঞ্চিত করছে এবং প্রতিদিনই তাদেরকে গুলি করে মারছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। ইসরায়েলকে থামাতে বিশ্বের দেশগুলোকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে তারা।