ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং ইইউ নেতারা একতা দেখিয়ে ব্রাসেলসে এক সম্মেলনে সমবেত হওয়ার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ এই সতর্কবার্তা দেন।
Published : 06 Mar 2025, 10:53 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা ব্রাসেলসে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে সমবেত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ বর্তমানে ‘ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।’
বৃহস্পতিবারের এই সম্মেলনে পুনরায় ইইউ’র সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, নেতারা আলোচনা করবেন কীভাবে ব্লকটি আরও কার্যকরভাবে কিইভকে সহায়তা দিতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সোমবারের ঘোষণার পর, যেখানে তিনি ইউক্রেইনের জন্য সহায়তা স্থগিত করার কথা বলেছেন। এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ইউরোপ জুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ব্রাসেলসের এই সম্মেলনকে ইউরোপীয় নেতারা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের বক্তব্য থেকেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তিন বছর পর, ট্রাম্প প্রশাসনের রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি সমর্থন ইউরোপের অনেককে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই তাদের ধারণা, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর আগের মতো নির্ভর করা যাবে না।
ওদিকে, বুধবার ইউক্রেইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর জন্য ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সুরক্ষা সম্প্রসারণ করা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। অর্থাৎ, ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার দিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা ভাবছে।
এর আগে, জার্মানির নেতা ফ্রেডরিশ মেৎর্সও পারমাণবিক সুরক্ষা অন্যান্য দেশের সাথে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উর্সুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, “ইউরোপ স্পষ্টতই বর্তমানে বিপদের মুখে রয়েছে। আমাদের জীবদ্দশায় যা আগে কখনও দেখিনি।”
ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্টা বলেন, এটি ইউক্রেইন এবং ইউরোপীয়দের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়।
ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে এক চিঠিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, মহাদেশকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং শিল্প ও উৎপাদন সক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তার লক্ষ্যে পরিচালিত করতে হবে।