ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কায় টানা দ্বিতীয় দিনও বিশ্বের প্রায় সব শেয়ার বাজারে পতন দেখা গেছে।
Published : 05 Apr 2025, 12:01 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার দেওয়া শুল্কের পাল্টায় প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, বেইজিং ভুল করেছে, তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধ ঘিরে শেয়ার বাজারের পতনকে নিয়ে মার্কিনিদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হতে বলেছেন। বলেছেন, এটা ‘ধনী হওয়ার ভালো সুযোগ’।
বুধবার ট্রাম্প যে শুল্ক নীতি ঘোষণা করেছেন তার ধাক্কায় টানা দ্বিতীয় দিনও বিশ্বের প্রায় সব শেয়ার বাজারে পতন দেখা গেছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্কে ‘মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, প্রবৃদ্ধি কমতে পারে’।
শুক্রবারও ওয়াল স্ট্রিটের অব্যাহত পতন দেখা গেছে, একই অবস্থা এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় সব শেয়ার বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত সুপরিচিত কোম্পানিগুলোর স্টক মার্কেট ইনডেক্স ডাউ জোন্স পড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি পড়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দিনে’ ঘোষিত শুল্কের পর এ পর্যন্ত মার্কিন আর্থিক বাজারে ৬ লাখ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এ নিয়ে মোটেও অনুতাপ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। উল্টো বলেছেন, “আমার নীতি কখনোই বদলাবে না। এটা ধনী হওয়ার জন্য চমৎকার সময়।”
ট্রাম্প যেসব দেশের ওপর পাল্টা ‘সম্পূরক শুল্ক’ চাপিয়েছেন তার মধ্যে চীনের পণ্যে দেওয়া ৩৪ শতাংশ শুল্কের বদলায় বেইজিংও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যে একই হারে শুল্ক বসিয়েছে।
এখানেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মামলারও হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি চীন চিকিৎসা খাত ও ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তিতে লাগে এমন দুর্লভ খনিজ উপাদান রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিচ্ছে।
এতে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “চীন ভুল করেছে, তারা আতঙ্কিত...এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই তাদের।”
৭৮ বছর বয়সী রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে সপ্তাহান্তের লম্বা ছুটি কাটাচ্ছেন ফ্লোরিডার পাম বিচে গলফ খেলে, সেখান থেকে দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোতে তিনি যে তত্ত্বে হাওয়া দিচ্ছেন, সেটি হল- পণ্য আমদানি অব্যাহত রাখার বদলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি বিদেশি কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে উৎপাদনে যেতে বাধ্য করতে যাচ্ছে।
“কেবল দুর্বলরাই পড়ে যাবে,” শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে এমনটাই বলেছেন তিনি।
আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না, কারণ তারা জানে, তারা এখানে থাকতে এসেছে।”
চীন পাল্টা পদক্ষেপ নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় অনেক বাণিজ্য অংশীদারই মন্দার ভয়ে ‘উত্তেজনা না বাড়িয়ে সময় নেওয়ার’ কৌশল বেছে নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য প্রধান মারোস সেফকোভিচ বলেছেন, ট্রাম্প তাদের পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও তারা ‘ধীরস্থির ভাবে, সাবধানতার সঙ্গে, ঐক্যবদ্ধ উপায়ে’ পদক্ষেপ নেবে এবং আলোচনার জন্য সময় দেবে।
তবে এর মধ্যেও ইউরোপের এই জোট ‘অলস বসে থাকবে না’, বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক বসাচ্ছে চীন
ট্রাম্পের শুল্ক: বিশ্ব বাণিজ্যে 'শতবর্ষে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন'
কাকে কতটা ভোগাবে ট্রাম্পের শুল্ক?
বিদেশিদের শাস্তি দিতে ট্রাম্পের শুল্কে সাজা পাচ্ছে মার্কিনিরাও