Published : 16 Dec 2025, 06:54 PM
অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনির বন্ডাই সৈকতে হামলাকারী বাবা ও ছেলের মধ্যে একজন ভারতীয়। আর তিনি হচ্ছেন বাবা সাজিদ আকরাম।
সাজিদ মূলত ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদ নগরীর বাসিন্দা ছিলেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। ভারতে নিজের পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল খুব কমই।
শেষবার ২০২২ সালে তিনি হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন। ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা সাজিদের ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখে ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে জানিয়েছেন এমন কথাই।
তারা জানান, ১৯৯৮ সালে ছাত্রভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন হায়দ্রাবাদের তোলিচৌকির বাসিন্দা সাজিদ আকরাম। এরপর কোনও উপলক্ষে মাত্র দুইতিন বার তিনি ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন।
শীর্ষ এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “তার (সাজিদ) বাবা ২০১৭ সালে মারা যান। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতেও তিনি ভারতে যাননি।”
আরেক কর্মকর্তা জানান, সাজিদের বড় ভাই একজন ডাক্তার। তিনি হায়দ্রাবাদেই থাকেন। তাদের প্রয়াত বাবা ছিলেন ১৯৮৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তা।
সাজিদ আকরাম হায়দ্রাবাদ থেকে কমার্সে গ্র্যাজুয়েশনের পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং পরে এক ইউরোপীয় নারীকে বিয়ে করেছিলেন। সাজিদ তার ভারতীয় পাসপোর্ট রেখে দিয়েছিলেন।
সাজিদ আকরামের ছেলে নাবিদের জন্ম হয় ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ায়। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। রোববারের হামলার ঘটনায় নাবিদও বাবার সঙ্গে হামলায় অংশ নেন। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বাবা-ছেলের এই হামলার ঘটনা নিয়ে তদন্তে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষও।
তেলেঙ্গানার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাজিদের ভারতে থাকা পরিবার বাবা-ছেলের উগ্রবাদী চিন্তাধারা বা এইসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনও কিছুই জানে না। কী পরিস্থিতিতে তারা এমন হামলা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কেও পরিবারের কোনও ধারণা নেই।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পসি এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা–ছেলে। সিডনির বন্ডাই সৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে তারা গত রোববার হামলা চালান। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয় এবং পুলিশের গুলিতে হামলাকারী সাজিদ আকরামও নিহত হন।
এই হামলা চালানোর আগে গত মাসেই ফিলিপিন্স ভ্রমণে গিয়েছিলেন সাজিদ ও নাবিদ। গোটা নভেম্বর মাসটা ফিলিপিন্সেই কাটিয়েছিলেন বাবা-ছেলে। অবশেষে ২৮ নভেম্বর রওনা দেন তারা। দাভাও থেকে ম্যানিলাগামী বিমানে চেপে রওনা দেন সিডনির উদ্দেশে।
গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখছে ফিলিপিন্সের অভিবাসন দপ্তর ও পুলিশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মার ল্যানিয়ন বলেন, “আমরা নিশ্চিত যে অভিযুক্তরা ফিলিপিন্সে গিয়েছিলেন। তবে তারা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, সেখানে থাকাকালে আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট না।”
তবে মনে করা হচ্ছে, সেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন সাজিদ ও নবিদ। ঘাতক এই বাবা-ছেলের গাড়ি থেকে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটস (আইএস)-এর দু’টি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের খুব কাছ থেকে দু’টি বিস্ফোরকও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।