১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি পার হতে আইআরজিসি’র অনুমতি লাগবে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের বাণিজ্যিক নৌযান পার হওয়ার অনুমতি পেলেও নৌবাহিনীর জাহাজ তা পাবে না, বলেন এক ইরানি কর্মকর্তা।

হরমুজ প্রণালি পার হতে আইআরজিসি’র অনুমতি লাগবে: ইরান
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Apr 2026, 11:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজগুলোর এখন থেকে ইরানর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অনুমতি লাগবে বলে রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পাবে। তবে নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এই অনুমতি পাবে না।

অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও সামরিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ইরান।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামরিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধই থাকছে। শুধুমাত্র অসামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহারের অনুমতি পাবে। 

“তবে এ ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌ-শাখার কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে।”

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছিলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ে এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ পার হতে পারবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন পরিষ্কার করার কাজ শুরু করতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, রণতরী দুটি প্রণালি পার হয়ে বর্তমানে পারস্য উপসাগরে (আরবিয়ান গালফ) অবস্থান করছে।

মার্কিন সামরিক জাহাজের এই চলাফেরার পরপরই কড়া হুঁশিয়ারি দেয় ইরানের আইআরজিসি। 

ফরাসি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, অনুমতি ছাড়া কোনও সামরিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। 

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।