জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শনিবার চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে কর্মশালা হয়।
Published : 19 Sep 2026, 06:50 PM
চট্টগ্রামে গত মাসে পুরনো জাহাজ কাটার সময় ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘জ্ঞানের ঘাটতি’ হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।
শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে একটি হোটেলে জাহাজভাঙা শিল্পের নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মশালায় এমন অভিমত উঠে আসে।
শিল্প মন্ত্রণালয় ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কর্মশালা হয়।
এতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, “সরকার চায়, এখানে মৃত্যুর হার যেন শূন্যে নেমে আসে। কারণ একটা মানুষের জীবন ফেরত আনা যায় না।
“কল কারখানা বা প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের উপরের পদে যারা আছেন তারা অবস্থানগত কারণে অনেক কিছু দেখতে পান। উনাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ হয়। যখন আপনি উপরে বসবেন, নিচের দিকে খেয়াল রাখুন।”
গত ১৪ অগাস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে একটি পুরনো জাহাজ কাটার সময় ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “দুর্ঘটনাটি প্রতিরোধের উপায় ছিল। কাজ চলার সময় গ্যাস শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেই এটি ঠেকানো সম্ভব হতো।
“ব্যালাস্ট ট্যাংকে জমে থাকা পানিতে এ ধরনের বিষাক্ত গ্যাস তৈরির ঝুঁকি আগে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এটি ছিল জ্ঞানের ঘাটতি।”
কর্মশালায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জাইকার জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি আকিরা ওকামোতো, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এন্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন ও চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুনাইত কাওসার বক্তব্য রাখেন।