ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের নেতা খোমেনির পৈতৃক বাড়িতে আগুন

ইসলামিক বিপ্লবের এই প্রয়াত নেতার পৈতৃক বাড়িতে আগুন জ্বলার ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।

রয়টার্স
Published : 18 Nov 2022, 06:55 PM
Updated : 18 Nov 2022, 06:55 PM

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির পৈতৃক বাড়িতে আগুন জ্বলতে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অধিকারকর্মীরা বলছে, বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে আগুন দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে পুলিশ হেফাজতে মাশা আমিনি নামের এক তরুণীর মৃত্যু ঘিরে ইরানে বিক্ষোভ চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স আগুন লাগার স্থানটি ফাইল ছবি এবং বাড়ির তোরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে দুটো ভিডিও ক্লিপ যাচাই করেছে।

তবে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা খোমেনির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, বাড়ির বাইরে অল্প কিছু মানুষ সমবেত হয়েছিল।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বাড়িটিতে আগুন জ্বলে উঠতে দেখা যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির সামনে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষকে উল্লাস করতে দেখা গেছে।

ভিডিওগুলো কবে ধারণ করা সেটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। মানবাধিকার নেটওয়ার্ক ১৫০০তাসভির বলেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে খোমেনির জন্মশহর খোমেইনে।

১৯৭৯ সালে ইরানে যে ইসলামিক বিপ্লব হয়েছিল, তার পুরোধা ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, ইমাম খোমেনি নামে যিনি বেশি পরিচিত। ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ৪০ বছর ইরান শাসন করেন শিয়া ধর্মীয় গুরুরা। সে সময় খোমেনিই ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে খোমেনি মারা যান।

খোমেনির জন্মস্থান মারকাজি প্রদেশের ওই খোমেইন শহরের নামেই তার নাম রাখা হয়েছিল খোমেনি। বাড়িটিকে পরে খোমেনি স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হয়। আগুনে বাড়িটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

তাসনিম বার্তা সংস্থা বলেছে, “(অগ্নিসংযোগ) খবরটি মিথ্যা। খোমেনির বাড়ির দরজা জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।”

পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বছর বয়সি কুর্দি তরুণী মাশা আমিনি পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার পর থেকেই ইরান বিক্ষোভ উত্তাল হয়ে আছে। হিজাববিরোধী এই বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক