Published : 29 Aug 2026, 12:23 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে একটি নির্দেশনামূলক স্মারক পাঠিয়েছে। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু ইন্টার্নশিপ বা কাজের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে।
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন নিয়ম মানবে না, তারা বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গত ২৪ অগাস্টে পাঠানো ওই স্মারকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই)- এর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) দেখতে পেয়েছে যে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কেবল তখনই অনুমোদন করা যায়, যখন তা শিক্ষার্থীর নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্মারকে বলা হয়েছে, “এসইভিপির নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হলে কোনও প্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমোদন দেওয়ার কিছু আবেদন স্থগিত করেছে।
ইউসিএলএ-এর এক মুখপাত্র বলেন, “সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সময়টিতে ইউসিএলএ পাঠ্যক্রমভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের (কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি) কিছু অনুমোদন স্থগিত করেছে।”
বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী সংক্রান্ত কার্যালয় জানিয়েছে, ২৪ অগাস্টের স্মারকটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট, সরাসরি এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর।
অগাস্টের মাঝামাঝি সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছিল।
বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক কার্যালয় জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুমোদনের আবেদন অদূর ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াকরণ করার সম্ভাবনা নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি শিক্ষার্থীদেরকে সে অনুযায়ী নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষাগত ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের আবেদন স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়াকরণ হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পাশাপাশি 'ডক্টরাল ডিসার্টেশন' এবং 'মাস্টার্স থিসিস রিসার্চ' সিপিটি’র আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।
সেক্ষেত্রে নতুন সরকারি শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রক্রিয়া তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করবে বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, মূল নিয়মে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের সতর্ক করে দিয়ে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, “বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের এই সুবিধার অপব্যবহার ট্রাম্প প্রশাসন আমলে আর সহ্য করা হবে না।”