Published : 12 Sep 2026, 04:18 PM
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে ‘আলোচনা ও কূটনীতিই’ যে একমাত্র পথ হতে পারে, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নয়া দিল্লিতে বিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদী এ কথা বলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মোদীর এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ জনশক্তির গতিশীলতা এবং পারস্পরিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে গত ৩১ অগাস্ট বিশকেকে ২৬তম সাংহাই সহেযোগিতা সংস্থা-এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাক্ষাতের পর এটি ছিল চলতি বছরে দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার আগে দুই নেতা উষ্ণ আলিঙ্গন করেন।
বৈঠকে মোদী ও পুতিন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে কথা বলেন, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে প্রভাবিত করেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এসব সংঘাত নিরসনে কেবল ‘আলোচনা ও কূটনীতিই’ একমাত্র পথ।
বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ভারতের বিখ্যাত তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা ‘তিরুক্কুরাল’ গ্রন্থের রুশ অনুবাদ উপহার দেন মোদী।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের গাড়িতে করেই একসঙ্গে ভ্রমণ করেন মোদী ও পুতিন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দুই নেতা একই গাড়িতে ভ্রমণ করলেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে এবারই প্রথম সশরীরে অংশ নিলেন পুতিন।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি শেষবার ভারত সফর করেছিলেন।
উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে এ সফরে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
নয়া দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে অব্যাহত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অংশ হিসেবে এবং গত সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনের পর পুতিনের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশকেকের বৈঠকে মোদী পাঁচ বছর আগে মস্কোর পূর্ণমাত্রার আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেইন সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে পুতিনকে ‘অনন্ত যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের সমাপ্তির দিকে’ এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পুতিনের সফরের আগে ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও চলমান বৈশ্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ইউক্রেইন সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অবহিত করবেন।
বৈঠকের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দুই নেতা চলমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ভারতের নয়া দিল্লিতে শুরু হয়েছে দুই দিনের বিকস সম্মেলন। এবার সভাপতি হিসেবে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছে ভারত।