Published : 02 Aug 2026, 02:40 PM
পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নাজকা লাইনসের উপর দিয়ে উড়ার সময় একটি ছোট পর্যটক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে পেরুর সরকার জানিয়েছে।
পেরুর যোগাযোগ ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরের দিকে সোকোস এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানটি নাজকা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং নাজকা লাইনস প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে।
বিমানটিতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের ১১ জন পর্যটক ও পেরুর দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন, সবাই নিহত হয়েছে।
ছোট সেসনা কারাভ্যান সি-২০৮ বিমানটি পেরুর স্থানীয় এয়ারলাইন এয়ারোডায়ানার মালিকানাধীন ছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিমানটি পিসকো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। ১টার দিকে বিমানটি ক্রুরা নাজকা বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে জরুরি পরিস্থিতির বার্তা পাঠায়। এরপরই বিমানটির সঙ্গে সব ধরনের রেডিও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পেরুর সম্প্রচারমাধ্যম আরপিপি জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দমকল কর্মী ও সিটি কর্পোরেশনের পুলিশ কর্মকর্তাদের আগুন নেভানোর ও প্রাথমিক উদ্ধার প্রচেষ্টা শুরু করার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
সামাজিক মাধ্যমে আসা ভিডিও ফুটেজগুলোতে দেখা গেছে, বিরান সমভূমিতে কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে, যেগুলোকে একটি ছোট বিমানের বলে মনে হয়েছে। সেখান থেকে ধোঁয়া উঠছে। এসব ভিডিওর সত্যতা তারা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা জানা যায়নি। পেরু সরকার বলেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।
এক বিবৃতিতে এয়ারোডায়ানা জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী তাদের ফ্লাইট সময়সূচী পর্যালোচনা করবে।
পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের মরু-সমভূমিতে ‘নাজকা লাইনস’ নামে পরিচিত খোদাই করা বিশাল সব নকশা ও জ্যামিতিক আকৃতি দেশটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এখানে প্রতি বছর প্রায় লাখখানেক পর্যটক আসেন। পর্যটকরা সাধারণত ওই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ছোট বিমানের জানালা দিয়ে এসব নকশা ও আকৃতি দেখে থাকেন।
শুক্রবার ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসের কারণে সৃষ্ট ধুলোবালি ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় নিকটবর্তী মারিয়া রাইচে বিমানবন্দর থেকে নাজকা লাইনের ওপর দিয়ে পরিচালিত ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এদিন এই প্রবল বাতাসের কারণে পেরুর দুজন পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান আর ছয়জন বিদেশী পর্যটকবাহী আরেকটি বিমানকে মার্কোনা বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।