Published : 04 Feb 2026, 07:04 PM
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল গত চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় অগ্রগতির পথ খোঁজা।
ইউক্রেইনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ টেলিগ্রাম অ্যাপে এক বার্তায় বলেন, “আবুধাবিতে আলোচনার আরেকটি ধাপ শুরু হয়েছে। ইউক্রেইন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া এই ত্রিপক্ষীয় ফরমেটে এই আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হল।”
উমেরভ আরও বলেন, আলোচক দলগুলো আলাদাভাবে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা করবে এবং পরবর্তীতে একটি যৌথ বৈঠকে সব পক্ষের অবস্থান সমন্বয় করা হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেইনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিইভ ও মস্কোকে আপস করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, কিইভের নিয়ন্ত্রণে থাকা নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে মস্কোর দাবি এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। ইউরোপের বৃহত্তম এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি বর্তমানে রুশ অধিকৃত এলাকায় অবস্থিত।
মস্কোর অন্যতম প্রধান শর্ত হল: কিইভকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের সব শহর থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে, যা বর্তমানে ইউক্রেইনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যুহ হিসেবে পরিচিত।
ইউক্রেইন প্রস্তাব দিয়েছে বর্তমান ফ্রন্টলাইন অনুযায়ী যুদ্ধ স্থগিত করার, কিন্তু তারা কোনোভাবেই একতরফা সেনা প্রত্যাহার করতে রাজি নয়।
বর্তমানে ইউক্রেইনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে রুশ বাহিনী ইউক্রেইনের আরও প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে কোনও চুক্তিতে সই করার বিপক্ষে। কিইভের বাসিন্দারা এই আলোচনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
৩৮ বছর বয়সী ট্যাক্সি চালক সের্হি রয়টার্সকে বলেন, “অবশ্যই আশা করি কিছু একটা পরিবর্তন হোক। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না এখন কিছু বদলাবে। আমরাও ছাড় দেব না, তারাও দেবে না।”