১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় সরকার উৎখাতে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার দাবি ‘মিথ্যা’, বলল যুক্তরাষ্ট্র

২০১৪ সালে মালয়েশিয়ার তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ওয়াশিংটন সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল-ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল পিএএস প্রধান আব্দুল হাদি আওয়াংয়ের এমন দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মালয়েশিয়ায় সরকার উৎখাতে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার দাবি ‘মিথ্যা’, বলল যুক্তরাষ্ট্র
কুয়ালা লামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 01:42 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সরকার উৎখাতে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

দেশটিতে মার্কিন দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডেভিড এইচ গ্যাম্বল জুনিয়র রোববার এক ফেইসবুক পোস্টে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র কখনোই মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করার চেষ্টা করেনি। এর বিপরীত কোনো দাবি বা বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

আগের দিন মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল পার্টি ইসলাম সেমালয়েশিয়ার সভাপতি আব্দুল হাদি আওয়াংয়ের বক্তব্যর প্রতিক্রিয়ায় ডেভিড এইচ গ্যাম্বল এমন জবাব দিলেন। 

হাদি দাবি করেছেন, ২০১৪ সালে ‘বিদেশি একটি শক্তি’ সরকার পতন ও ক্ষমতা দখলের বিষয়ে তার দলের নেতাদের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল।

শনিবার কেলান্তান রাজ্যের কোটা বারুতে পিএএসের ৭২তম বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী ভাষণে হাদি বলেন, ওই ঘটনা ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মালয়েশিয়া সফরের সময়। 

২০১৪ সালের এপ্রিলে ওবামা মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। ২৬ এপ্রিল তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছান এবং ২৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সে সময় পিএএস ছিল পাকাতান রাকইয়াত জোটের অংশ। দলটির তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তাকিউদ্দীন হাসান এবং হাদির রাজনৈতিক সচিব আহমদ সামসুরি মোখতারকে সে সময় মার্কিন দূতাবাসে একটি বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

হাদি বলেন, বৈঠকে নাজিব রাজাকের সরকার উৎখাত করে করে ক্ষমতা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দাবি, পিএএসের দুই নেতা সেই প্রস্তাবে প্রভাবিত হননি এবং তা প্রত্যাখ্যান করেন।

পিএএস সভাপতি বলেন, ওই বৈঠকের পর মালয়েশিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। পিএএসের তৎকালীন মহাসচিব মুস্তফা আলিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সেই বৈঠকে যান।

হাদির ভাষ্য, সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, পিএএস সরকার গঠন করলে কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করবে। জবাবে তিনি পাল্টা জানতে চান, “আমেরিকা কাদের সঙ্গে একমত?”

তার দাবি, এই উত্তর শুনে রাষ্ট্রদূত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি মালয়েশিয়ার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা মাহাথির মোহাম্মদকে জানান এবং মাহাথির তার অবস্থানের প্রশংসা করেন।

২০১৮ সালে বদলে যায় মালয়েশিয়ার ক্ষমতার সমীকরণ

হাদির বক্তব্যে যে সময়ের কথা এসেছে, তার চার বছর পর ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন জোট বারিসান নাসিওনাল (বিএন) পরাজিত হয়।

বিরোধী জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ) নির্বাচনে জয় পায় এবং জোটটির নেতৃত্বে থাকা মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী হন। রয়টার্সের ওই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাজিব রাজাকের নেতৃত্বাধীন জোটের সেই পরাজয় ছিল দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন; নির্বাচনী প্রচারে ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিসহ দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তবে হাদি যে অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনের পরাজয়ের সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। 

পিএএসের তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তাকিউদ্দীনও মার্কিন দূতাবাসে সেই বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তার বক্তব্যে ঘটনার বর্ণনা হাদির দাবির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। 

তাকিউদ্দীন বলেছেন, দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, পিএএস তখন বিএন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছিল কি না। তার ভাষ্য, দেশের রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা কখনোই চাননি।

পুরনো খবর

মালয়েশিয়ার সরকার পতনে ইসলামপন্থিদের ‘সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল বিদেশি শক্তি’