Published : 02 Oct 2025, 02:09 PM
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভায় কয়েকদিন আগে একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল ধসে চাপা পড়া প্রায় ৬০ জনের মতো কিশোর বয়সীকে জীবিত উদ্ধারে এখনও প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তাদেরকে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রাজধানী জাকার্তা থেকে ৪৮০ মাইলের মতো পূর্বে অবস্থিত পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো শহরে সোমবার আল খোজিনি স্কুলটি ধসে পড়ে। ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় উপরের তলায় নির্মাণ কাজের ভার নিতে পারেনি ভবনটি। এক পর্যায়ে সেটি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নামাজ পড়ারত কয়েক ডজন শিক্ষার্থী।
স্কুলের অনুপস্থিতি তালিকা ও পরিবারগুলোর দেওয়া নিখোঁজ শিক্ষার্থীর তথ্যের ভিত্তিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৫৯ জন আটকা আছে বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা এমি ফ্রেজার রয়টার্সকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা চাপা পড়াদের নাম ধরে ডেকে এবং মোশন ডিটেক্টর ও স্ক্যানার ব্যবহার করেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কারও উপস্থিতির সঙ্কেত পাননি।
জীবিত উদ্ধারদের তালিকা দেওয়া একটি হোয়াইট বোর্ডের আশপাশে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের মধ্যে থাকা ৫২ বছর বয়সী আহমাদ ইখসান অবশ্য এখনও তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে আরিফ এফেন্দিকে ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
“এখন পর্যন্ত আমি আমার ছেলের ব্যাপারে কিছু শুনিনি। আমার বিশ্বাস আমার ছেলে এখনও জীবিত,” বলেছেন ইখসান।
সংস্থাটির দেওয়া ছবিতে সরু টানেলের ভেতর কমলা রঙের ইউনিফর্ম পরা উদ্ধারকর্মীদের হামাগুড়ি দিয়ে জঞ্জালের নিচে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজতে দেখা গেছে।
স্কুলভবন ধসে ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬-এ দাঁড়িয়েছে বলে বুধবার রাতে জানিয়েছিলেন সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালক ইউদি ব্রামানতিও। তবে বৃহস্পতিবারও ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা নিহতের সংখ্যা ৫-ই রেখেছে।
“আমরা মনোযোগ হারাতে পারি না। হয়তো আমাদের ছোট ভাইদের ক্ষেত্রে এখনও আশা আছে,” বলেছেন ব্রামানতিও।
এদিকে ফ্রেজার বলেছেন, হালকা, ছাড়া ছাড়া জঞ্জাল তুলতে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে একটি ক্রেন মোতায়েন করা হয়েছে।
আল খোজিনির মতো ইসলামিক স্কুল বা মাদ্রাসাগুলো স্থানীয়ভাবে ‘পেসানত্রেন’ নামে পরিচিত।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস ইন্দোনেশিয়ায়, দেশটিতে এমন প্রায় ৪২ হাজার ‘পেসানত্রেনে’ ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে বলে দেশটির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বলছে।