Published : 14 Jul 2025, 11:58 AM
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনে কর্তৃপক্ষ সেখানে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে।
সুইদা শহরে বেদুইন সুন্নি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী দ্রুজের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহতও হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্তত ৩০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে; পশ্চিম এশিয়ার এ দেশটিতে সংঘাত-সংঘর্ষের ওপর নজর রাখা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাবে নিহত ৩৭।
গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদের শাসনের অবসানের পর সিরিয়ায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে লড়াই-সংঘাত বেড়েছে।
ইসলামপন্থিদের নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার দেশটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও পরিস্থিতি এখনও বেশ নাজুক।
গত বছরের শেষদিকে হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে সুন্নি ইসলামপন্থি বিদ্রোহীরা দামেস্কে ঢুকে পড়ে এবং প্রেসিডেন্ট বাশারকে উৎখাত করে। বাশারের পরিবার ৫৪ বছর পশ্চিম এশিয়ার দেশটি শাসন করেছে।
সোমবার ভোরের দিকে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সুইদায় সংঘাত নিরসনে ও সংঘর্ষ থামাতে তাদের বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। সংঘর্ষে ১০০ জনের মতো আহত হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর তার এলাকার সবাইকে ‘আত্মসংযম প্রদর্শন ও সংস্কারের জাতীয় আহ্বানে সাড়া দিতে’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ধর্মীয় নেতারাও সবাইকে শান্ত হতে অনুরোধ করেছেন।
এ বছরের এপ্রিল ও মে মাসে সিরিয়ার নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দ্রুজ যোদ্ধাদের লড়াইয়েও কয়েক ডজন নিহত হয়েছিল।
দ্রুজরা নিজেদেরকে শিয়া ইসলামের একটি শাখা বলে দাবি করে; লেবানন, জর্ডান ও ইসরায়েলেও এদের অনেক অনুসারী আছে।
১৩ বছর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় আসাদের শাসনামলে এই গোষ্ঠীটির অনেকেই নীরবে সরকারের প্রতি অনুগত ছিলেন।
এ মাসের শুরুতে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিবিসিকে বলেছিলেন, তারা কেবল শারীরিক হামলা নয়, নতুন সরকারের দিক থেকে নিরাপত্তা না পাওয়া নিয়েও উদ্বিগ্ন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ায় শিয়া ইসলামের আরেক শাখা আলাওয়াইত সম্প্রদায়েরও কয়েকশ লোক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। দামেস্কে একটি গির্জার ভেতরে থাকা প্রার্থনাকারীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
তার মধ্যেই পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার ইসলামপন্থি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র চলতি মাসেই তাদের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকা থেকে এইচটিএসের নাম সরিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও সম্প্রতি সিরিয়া সফর করেছেন। তার আগে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে দেশটিতে যুক্তরাজ্যের কোনো মন্ত্রীর পা পড়েনি।