Published : 06 Mar 2026, 06:30 PM
ভারতের অন্যতম প্রযুক্তি হাব এবং ব্যাঙ্গালুরু খ্যাত কর্ণাটক রাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে।
শুক্রবার রাজ্য বাজেট পেশ শেষে ভাষণে এমনই ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া৷
তিনি বলেন, “শিশুদের উপর অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে ১৬ বছরের কমবয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।”
ভারতজুড়ে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে চলা বিতর্কে প্রথম কোনও রাজ্য হিসেবে কণাটকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ ঘোষণা এল।
এর আগে গোয়া এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপ করার কথা ভেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। তবে কর্ণাটকই প্রথম রাজ্য হিসেবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল৷
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি এবং ইন্টারনেটে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ উল্লেখ করেননি।
এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে ব্রিটেন, ডেনমার্ক এবং গ্রিসও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০১৯-২০ সালের জরিপ অনুযায়ী, কর্ণাটকের জনসংখ্যার চারভাগের একভাগের বয়স ১৫ বছরের নিচে।
ভারত সরকারের প্রধান নীতি নির্ধারক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক নীতি আয়োগের ২০২৫ সালের তথ্যানুসারে, এই রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ৬ কোটি ৭৬ লাখ।
ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’ খ্যাত ব্যাঙ্গালুরুতে মাইক্রোসফট, আমাজন, আইবিএম, ডেল এবং গুগলের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দপ্তর রয়েছে।
অন্যদিকে, মেটা-র জন্য ভারত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম বাজার। ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যবহারকারী এ দেশেই রয়েছে।
বর্তমানে ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৫ কোটি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ১০০ কোটি।
ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ‘ডিজিটাল আসক্তি’ মোকাবেলায় বয়স-ভিত্তিক প্রবেশাধিকারের নীতি প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তাদের মতে, বয়স-ভিত্তিক এই নিষেধাজ্ঞা সবসময় কার্যকর হয় না, কারণ শিশুরা ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তা এড়িয়ে যেতে পারে।
তারা মনে করেন, পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চেয়ে শিশুদের এবং অভিভাবকদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষিত করে তোলা বেশি কার্যকর হতে পারে।