১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের সাবেক শতাধিক কূটনীতিক

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে মুছে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছে- এক খোলা চিঠিতে বলেছেন এই কূটনীতিকরা।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের সাবেক শতাধিক কূটনীতিক
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 11:54 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

ইসরায়েলের ওপর যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নিজ নিজ দেশের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক।

এক খোলা চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে মুছে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছে।

শনিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদ-এ খোলা এই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তাছাড়া, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সমানাধিকার নিশ্চিত করতেও ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

চিঠিতে সই করা কূটনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি, ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক পরিচালক ইভ অবিন দে লা মেসুজিয়ের, ডেনিস বোচার্ড ।

চিঠিতে বলা হয়, “ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পরোক্ষ সম্মতিতে উগ্র ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের অবাধ সহিংসতা জাতিগত নিধনের শামিল। বিশ্ব আর ইসরায়েলকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখে না।”

লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে বলেন, “চিঠির ভাষাগুলো কেবল কথা নয় বরং দাবি: আমরা কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “আমরা কথা নয়, কাজ দেখতে চাই। গত কয়েক মাস এবং বছরের পর বছর ধরে আমাদের মন্ত্রীরা কেবল নিন্দা আর সমালোচনা করে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ করা, বসতিস্থাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং গাজায় সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।”

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই স্বীকৃতিকে এখন আশু পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে হবে বলে দাবি জানান সাবেক কূটনতিকরা।

চিঠিতে সই করা কূটনীতিকেরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবাননে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলের বর্তমান সীমানা নির্ধারণে তাদের ঐতিহাসিক দায় আছে।

চিঠিতে বলা হয়, “আমাদের দুই দেশ বিশ্বাস করে, যারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”

চিঠিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে যৌথভাবে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করা এবং ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা।

এছাড়াও চিঠিতে ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য বন্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনায় নিষিদ্ধ করা এবং জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ- সহ অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থার মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাজায় সাংবাদিক, কূটনীতিক ও আইনপ্রণেতাদের নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।