১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুপক্ষের জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের

গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার পর এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল।

দুপক্ষের জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের
ভিডিও থেকে নেওয়া এই স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলার সময় আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 10:25 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

ইরানের আশপাশের জলসীমায় দুপক্ষের জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে আমেরিকানরা আঘাত হেনেছে আর আরও তিনটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান, যেগুলো হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত রুট ধরে যাচ্ছিল বলে বলে দাবি করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার তারা ইরানের তেল কেন্দ্র খার্ক দ্বীপের কাছে একটিসহ তিনটি ইরানি জাহাজে আঘাত হেনেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর এসব হামলা চালানো হয়।  

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেছেন, “আইআরজিসির কাছে পরিষ্কার বার্তা: তোমরা যদি আমাদের দুটি জাহাজে গুলি কর, আমরা তোমাদের তিনটিকে তুলে নিয়ে আরও বেশি অথনৈতিক ব্যয় চাপিয়ে দেবো।” 

এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি ওই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে হামলা তীব্র করারা হুমকি দিয়েছে। পরে আইআরজিসি জানায়, তারা তিনটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, পাশাপাশি অন্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন তিনটি জাহাজে আঘাত হেনেছে। 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী বলেছে, “সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বারা প্রতারিত হবেন না এবং অননুমোদিত জলপথ দিয়ে পার হওয়ার উদ্দেশ্যে যে কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।” 

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, খার্ক দ্বীপের উপকূলে নোঙর করে থাকা একটি ট্যাঙ্কারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ট্যাঙ্কারটির নাবিকরা জাহাজটি ছেড়ে সরে যাওয়ার পর সেটিতে আঘাত হানা হয়, ফলে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।  

সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি হামলায় কোনো আমেরিকান জখম হয়নি। 

গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার পর এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল। উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ফলে দুপক্ষের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠার আশঙ্কা ছিল। 

ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ‍ও ইসরায়েল হামলা চালালে যুদ্ধ বেঁধে যায়। পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরান জবাব দেয়। তারপর থেকে ইরান বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে।  

এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিবাপলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।   

আরও পড়ুন: 

খার্ক দ্বীপের কাছে ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা