১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পারমাণবিক আলোচনার আগে আইএইএ প্রধানের সঙ্গে ইরানের বৈঠক

গতবছর জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর আইএইএ-এর সঙ্গে ইরান সব সহযোগিতা বন্ধ করেছিল। এরপর সংস্থাটির প্রধান গ্রোসির সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ।

পারমাণবিক আলোচনার আগে আইএইএ প্রধানের সঙ্গে ইরানের বৈঠক
আব্বাস আরকচি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2026, 10:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক দশকের পুরনো বিবাদ নিরসনে আসন্ন আলোচনার আগে সোমবার জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। 

মঙ্গলবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করতে জেনিভায় যান আরাকচি। গতবছর জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর আইএইএ-এর সঙ্গে ইরান সব সহযোগিতা বন্ধ করেছিল।

তারপর গ্রোসির সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। তদের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল প্রযুক্তি নিয়ে নিবিড় আলোচনা। তাতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদেরও।

পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান এটি সীমিত রাখার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হোক সেটি চায়। ওদিকে, আইএইএ ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের খোঁজ জানতে চায়।

গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির ৪৪০ কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রায়-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের কী হয়েছে তা কয়েক মাস ধরেই জানতে চেয়ে আসছে আইএইএ।

জুনের ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আগেকার আলোচনা থমকে গিয়েছিল। এবারের আলোচনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি জেনেভায় পৌঁছে বলেছেন, তিনি একটি সুষ্ঠু এবং ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করতে সেখানে গেছেন।

এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “টেবিলে যা নেই, তা হচ্ছে হুমকির কাছে মাথা নত করা।”

তেহরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আশঙ্কা- এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বৈঠকের আগে দুই পক্ষের মধ্যেই নমনীয়তার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে,

 অন্যদিকে ইরানও সোমবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে।

গতবছর জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ওই অঞ্চলে তাদের শক্তি আরও বাড়াচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি রণতরি গ্রুপ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালীতে ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ’ নামে একটি মহড়া পরিচালনা করছে। 

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের নৌ ইউনিটের প্রস্তুতি যাচাই করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্র এবারের আলোচনায় কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। 

তেহরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়ে আলোচনার কথা বলেছে।

হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা অত্যন্ত কঠিন হবে। কারণ, আমরা এমন এক কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মতাত্ত্বিকদের সঙ্গে কথা বলছি যারা ভূ-রাজনৈতিক নয় বরং ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।”