১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে দুবাইয়ের নতুন বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংক থাকবে মাটির নিচে

তবে যুদ্ধের কারণে এই বিরাট বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ কোনোভাবেই পিছিয়ে দিতে রাজি নয় দুবাই কর্তৃপক্ষ।

ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে দুবাইয়ের নতুন বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংক থাকবে মাটির নিচে
Photo: Financial Times @FT via X

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 04:30 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে ভবিষ্যতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষায় নিজেদের নতুন বিমানবন্দরের কিছু অংশ মাটির নিচে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে দুবাই। 

দুবাই এয়ারপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পল গ্রিফিথসের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রকল্প এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন—জ্বালানি ট্যাংক মাটির নিচে রাখা হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য জায়গাগুলো আরও মজবুত করার প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যে কোনো হামলা থেকে রক্ষায় অবকাঠামোর নির্দিষ্ট কিছু অংশ হয়ত আরও কিছুটা শক্ত করতে হবে, যাতে সেগুলো আরও বেশি টেকসই হয়।"

নকশা প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দরটিকে আরও সুরক্ষিত করার অন্যান্য ধারণা, যেমন–জ্বালানি মাটির নিচে সংরক্ষণ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্রিফিথস বলেন, "এটা মূলত (হামলার) সম্ভাবনা বনাম পরিণতি এবং ঝুঁকির হিসাব-নিকাশ।"

তবে যুদ্ধের কারণে বছরে ২৫ কোটি যাত্রী ধারণক্ষমতার এই বিশাল বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ কোনোভাবেই পিছিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। 

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিফিথস বলেন, "এই যুদ্ধ আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে কোনোভাবে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে আমার চেয়ারম্যানের (শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম) সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। চেয়ারম্যানের ছোট্ট উত্তর ছিল– ‘না’।"

১৯৬০ সালে চালু হওয়া দুবাই বিমানবন্দর টানা এক দশক ধরে বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হলে ওই অঞ্চলের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়। ফলে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ বিমানবন্দরের তালিকার বাইরে চলে যায় দুবাই।

দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলো থাকে মাটির ওপরে । যুদ্ধের মধ্যে সেখানেও হামলা হয়েছিল। তখন বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হলে দুবাইয়ের প্রধান এয়ারলাইন্স 'এমিরেটস' তাদের সমস্ত ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বিমানের প্রহরায় সরু আকাশপথ ব্যবহার করে তারা পুনরায় পরিষেবা চালু করে।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে দুবাইয়ের বেশ কয়েকটি অংশে, বিশেষ করে বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। তাতে কয়েকশ মানুষ আহত হন, এক ডজনের বেশি মানুষের প্রাণ যায়। 

গ্রিফিথস জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাৎক্ষণিক (রিয়েল-টাইম) যোগাযোগের কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই হামলার পূর্বাভাস পেত। এর ফলে খুব অল্প সময়ের নোটিসে যাত্রীদের মাটির নিচে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হত।

ওই সময়ে বিমানবন্দরে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে তিনি বলেন, "১১১টি সতর্কবার্তার মধ্যে আমরা মাত্র ১৬টিতে হামলার শিকার হয়েছি এবং এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রভাব ছিল খুব সামান্য।"

চলতি বছরের প্রথমার্ধে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমে গিয়েছিল। তবে গ্রিফিথস বলেন, এখন এই সংখ্যা আবারও বাড়ছে এবং আগামী বছর দুবাই আবারও বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খেতাব ফিরে পাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।