১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্তের দোষ স্বীকার

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যায় দোষ স্বীকার করে টোকিওর আদালতে অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামি বলেছেন, ‘সবই সত্য।’

শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্তের দোষ স্বীকার
জাপানের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Oct 2025, 06:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:33 PM

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামি বিচারের প্রথম দিনেই দোষ স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ইয়ামাগামি রাজধানী টোকিওর আদালতে বলেছেন, ‘সবই সত্য।’

২০২২ সালে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে রাজনৈতিক প্রচার চলাকালে ইয়ামাগামি বাড়িতে তৈরি বন্দুক দিয়ে শিনজো আবেকে গুলি করেছিলেন। 

আহত আবে পরে হাসপাতালে মারা যান। তাকে হত্যার এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। 

ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং ইউনিফিকেশন চার্চ (মুনিজ নামে পরিচিত) এর মধ্যেকার সম্পর্কও আলোচনায় উঠে আসে।

শোনা যায়, অভিযুক্ত ইয়ামাগামি তদন্তকারীদের বলেছিলেন, তার মা এই গির্জায় বিপুল অর্থ দান করার কারণে তাদের পুরো পরিবার দেউলিয়া হয়ে যায়। 

শিনজো আবে ওই গির্জার জন্য প্রচার চালানোর কারণেই তার পরিবার এভাবে দেউলিয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ইয়ামাগামির। আর সে কারণেই আবেকে হত্যার নিশানা করেছিলেন বলে জানান তিনি।

ইয়ামাগামির অভিযোগ, গির্জায় আস্থার প্রমাণ দিতে তার মা প্রায় ১০ কোটি ইয়েন (প্রায় ৬৬,৬০০০ ডলার) দান করেছিলেন। 

এই অভিযোগের ভিত্তিতে গির্জাটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। চারজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। 

এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে টোকিও আদালত গির্জাটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। গির্জাটি কর ছাড়ের সুবিধাও হারায় এবং তাদের সম্পত্তিও বিক্রি করে দিতে হবে।

তবে ইয়ামাগামির মা এখনও ওই গির্জার প্রতি তার বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। ছেলের কর্মকাণ্ড তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে বলে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ইয়ামাগামির বিচার প্রক্রিয়া আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, বাড়িতে তৈরি ওই অস্ত্রটি সঠিক আইনি ক্যাটাগরিতে পড়ে না।

জাপানে বন্দুক সহিংসতা খুবই কম। আবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দেশটিতে বাড়িতে তৈরি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কড়া হয়েছে।